মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ ২০২৬, ০১:৩০ অপরাহ্ন

মো. সেলিম উদ্দিন খাঁন
কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার হারবাং স্টেশন এলাকায় মাদক অভিযান চলাকালে রূপণ কান্তি দে নামের এক পুলিশ কর্মকর্তার মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মাদকবিরোধী অভিযানে হামলার শিকার হয়ে তার মৃত্যু এবং মোফাজ্জল হোসেন আহত হয়েছেন বলে তথ্য ছড়িয়ে পড়ে। তবে এ দাবি নাকচ করেছে চকরিয়া থানা ও জেলা পুলিশ।চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনির হোসেন বলেন, ‘হামলার কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। এর আগেও রূপণ কান্তি দে দুবার স্ট্রোক করেছিলেন। ধারণা করা হচ্ছে, স্ট্রোকজনিত কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে।’
গত সোমবার বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে হারবাং স্টেশন থেকে জুনাইদ নামের একজন মাদকসেবীকে পাকড়াও করেন হারবাং পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) মোফাজ্জল হোসেন ও এএসআই রুপন কান্তি দে। এসময় এএসআই রুপন কান্তি দে জুনাইদের প্যান্টের বেল্ট ধরে রাখেন এবং এসআই মোফাজ্জল হোসেন মাদকসেবী জুনাইদকে কিলঘুষি মারছিলেন। একপর্যায়ে জুনাইদ এএসআই রুপন কান্তির পায়ে পড়ে দু হাতে পা ধরে ফেলেন এবং বাঁচার আকুতি জানান। ওই সময়ও তাঁর ওপর কিলঘুষি চলছিল। একপর্যায়ে এএসআই রুপন কান্তি দে’র পাশের চেয়ারে বসার আহ্বানে জুনাইদ পা ছেড়ে দাঁড়ালে দাঁড়ানো অবস্থা থেকে হঠাৎ ঢলে পড়ে যান এএসআই রুপন কান্তি দে। ওই সময় এসআই মোফাজ্জল নিজেই জুনাইদকে ধরে রাখেন। ঢলে পড়ার পর রুপন কান্তি দে বমি ও প্রস্রাব করেন। পরে অবস্থা বেগতিক হয়ে গেলে এসআই মোফাজ্জল, মাদকসেবী জুনাইদ ও স্থানীয় আরও কয়েকজন ধরাধরি করে রুপনকে একটি গাড়িতে তুলে বরইতলী রাস্তার মাথা মা ও শিশু হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃ*ত ঘোষণা করেন। এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন, রুপনকে যে গাড়িতে করে মা ও শিশু হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছিল সে গাড়িতেই ছিলেন জুনাইদ। কিছুদূর যাওয়ার পর দৌঁড়ে গাড়ি থেকে পালিয়ে যান তিনি। মা ও শিশু হাসপাতালের চিকিৎসকের সিদ্ধান্তের পরে হারবাং পুলিশ ফাঁড়ির অন্যান্য পুলিশ সদস্যরা এএসআই রুপনকে চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে তাঁর বিষয়ে লিপিবদ্ধ করা হয় এভাবে, বিকেল পাঁচটায় ঢলে পড়েন রুপন। ঢলে পড়ার পর তাঁর বমি হয়। প্রায় দেড় ঘন্টার বেশি সময় পর সন্ধ্যা সাতটার দিকে তাকে চকরিয়া হাসপাতালে নেওয়া হয়। অতীত হিস্ট্রি হিসেবে স্ট্রোকের কথা উল্লেখ করা হয়। শরীরে কোথাও আঘাতের চিহ্ন নেই।এসআই মোফাজ্জলকেও চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। এসআই মোফাজ্জলের শরীরেও কোথাও আঘাতের চিহ্ন নেই।প্রত্যক্ষদর্শীরাও ঘটনাস্থলে কোনো হামলার বিষয় দেখেননি বলে জানিয়েছেন। চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মিনহাজুল ইসলাম জানান, মৃতদেহে দৃশ্যমান কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।