মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬, ০২:৪৭ পূর্বাহ্ন

মোঃ রেজাউল হক রহমত | ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি
ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরে নতুন করে সক্রিয় হয়ে উঠেছে সংঘবদ্ধ ডাকাত চক্র—এমন আশঙ্কা দেখা দিয়েছে সাম্প্রতিক এক অভিযানের পর। শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকা স্টেশন রোডে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে দেশীয় অস্ত্রসহ ছয়জনকে আটক করেছে র্যাব-৯। এ ঘটনায় শহরজুড়ে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও বড় কোনো অপরাধচক্রের ইঙ্গিত পাচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
শনিবার (রাত ১০টার দিকে) গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে তাদের আটক করা হয়। আটককৃতরা হলেন— আব্দুল কাইয়ুম চৌধরী (৩৮), রাজু মিয়া (২৩), ইতিহাস মিয়া (২২), ইয়াছিন মিয়া (২২), আকাশ মিয়া (২৫) এবং নাহিদ হাসান ওরফে শাওন (২০)। তাদের মধ্যে প্রথম পাঁচজন ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের উত্তর মোড়াইল এলাকার বাসিন্দা এবং নাহিদ হাসান বিজয়নগর উপজেলার চম্পকনগর গ্রামের বাসিন্দা।
রবিবার র্যাব-৯ এর ব্রাহ্মণবাড়িয়া ক্যাম্প থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার কে. এম. শহিদুল ইসলাম সোহাগ বিষয়টি নিশ্চিত করেন। গোপন বৈঠকে ডাকাতির ছক র্যাব সূত্র জানায়, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, স্টেশন রোড এলাকায় কয়েকজন ব্যক্তি অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে অবস্থান করছে এবং তারা ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের পরিকল্পনা করছে। এমন তথ্য পাওয়ার পরপরই র্যাব সদস্যরা এলাকায় অভিযান চালায়।
অভিযান টের পেয়ে সন্দেহভাজনরা দ্রুত পালানোর চেষ্টা করে এবং একটি সাদা প্লাস্টিকের বস্তা ফেলে দেয়। পরে ধাওয়া করে ঘটনাস্থল থেকে ছয়জনকে আটক করা হয়।
বস্তা খুলতেই বেরিয়ে আসে ভয়ংকর অস্ত্র পরে আটক ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদে তারা স্বীকার করে যে ফেলে রাখা বস্তার ভেতর তাদের ব্যবহারের জন্য রাখা দেশীয় অস্ত্র রয়েছে। বস্তা তল্লাশি করে দুটি রামদা, চারটি ধারালো ছুরি এবং একটি এসএস পাইপের লাঠি উদ্ধার করা হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রাথমিক ধারণা, এসব অস্ত্র ব্যবহার করে তারা মহাসড়ক ও শহরের বিভিন্ন সড়কে চলাচলকারী যানবাহনে ছিনতাই এবং নির্জন বাসাবাড়িতে ডাকাতি চালানোর পরিকল্পনা করছিল।
বড় চক্রের সদস্য হতে পারে আটকরা তদন্ত সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, আটক ব্যক্তিরা কেবল মাঠপর্যায়ের সদস্য হতে পারে। তাদের পেছনে আরও বড় কোনো সংগঠিত চক্র কাজ করছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কে বা কারা তাদের নেতৃত্ব দিচ্ছিল, কোথায় কোথায় তারা আগে অপরাধ করেছে এবং শহরের কোন কোন এলাকায় তাদের টার্গেট ছিল—এসব বিষয় এখন তদন্তের আওতায় এসেছে।
শহরে বাড়ছে অপরাধের আতঙ্ক স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দারা জানান, ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের স্টেশন রোড, কোর্ট রোড ও আশপাশের এলাকায় রাতে অনেক সময় ছিনতাই ও চুরির ঘটনা ঘটছে বলে অভিযোগ রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে ভুক্তভোগীরা সামাজিক মানসম্মান বা ঝামেলার ভয়ে অভিযোগও করেন না।
তাদের মতে, যদি সময়মতো অভিযান না চালানো হতো, তাহলে বড় ধরনের কোনো ডাকাতির ঘটনা ঘটতে পারত। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর অবস্থান র্যাব জানিয়েছে, ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরে সংঘবদ্ধ অপরাধ দমনে তাদের গোয়েন্দা তৎপরতা আরও জোরদার করা হয়েছে। আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং পুরো চক্রটিকে শনাক্ত করতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, “শহরে অপরাধী চক্রের কোনো তৎপরতা সহ্য করা হবে না। ডাকাত ও ছিনতাইকারীদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান চলবে।”