সোমবার, ১৫ Jun ২০২৬, ০৯:৩০ অপরাহ্ন

বিজ্ঞপ্তি:
উপদেষ্ঠা মন্ডলীর সভাপতি মো: ইসলাম, সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ বিল্লাল হোসেন, নির্বাহী সম্পাদক: সেলিম উদ্দিন খান,  বার্তা প্রধান : মোহাম্মদ আসিফ খোন্দকার, আইনবিষয়ক সম্পাদক: অ্যাডভোকেট ইলিয়াস , যোগাযোগ : ০১৬১৬৫৮৮০৮০,০১৮১১৫৮৮০৮০, ঢাকা অফিস: ৪৩, শহীদ নজরুল ইসলাম রোড, চৌধুরী মল (৫ম তলা), টিকাটুলি ১২০৩ ঢাকা, ঢাকা বিভাগ, বাংলাদেশ মেইল: bdprotidinkhabor@gmail.com চট্টগ্রাম অফিস: পিআইবি৭১ টাওয়ার , বড়পুল , চট্টগ্রাম।
সংবাদ শিরোনাম:
লোহাগাড়ায় সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মৌলানা হেলাল উদ্দিন আটক রামিসা ধর্ষণ-হত্যার ঘটনায় রায়:পর্যবেক্ষণে যা বললেন বিচারক কক্সবাজারে ঘুষে চলছে শতাধিক অবৈধ ভাটা, সংরক্ষিত বনে ৩১ ইটভাটায় কাঠ পুড়িয়ে ইট উৎপাদন বড়লেখায় ডাকাতির চেষ্টা ও হত্যা মামলাসহ একাধিক মামলার আসামি গ্রেপ্তার শ্রীমঙ্গলে সাংবাদিকের বাসা থেকে চুরি ওয়া মালামাল উদ্ধার, কেয়ারটেকার গ্রেপ্তার শ্রীমঙ্গলে রবীন্দ্র-নজরুল জয়ন্তী উদযাপন লামায় সাংবাদিকের বাড়িতে ডাকাতি, ফোন ধরেনি পুলিশ চুনতি ১৯দিনব্যাপী সীরতুন্নবী (স.)’র ৫৬ তম মাহফিলে’র প্রস্তুতি সভা: বাজেট সাড়ে পাঁচ কোটি চট্টগ্রাম-কেন্দ্রীয় কারাগার অঞ্চলভেদে ৪ ভাগ করার পরিকল্পনা বিরূপ আবহাওয়ার কারণে লবণের লক্ষ্যমাত্রা অপূর্ণ প্রায় ৭ লাখ ৭০ হাজার টন কম

চট্টগ্রামে ট্রাফিক সার্জেন্টদের নেপথ্যের গল্প: দায়িত্বের ভারে ক্লান্ত নীরব যোদ্ধারা

 

 মো: সেলিম উদ্দিন খান

চট্টগ্রাম জেলা ও নগরী দেশের অন্যতম বাণিজ্যিক কেন্দ্র। প্রতিদিন লাখো মানুষ যাতায়াত করে, রাস্তায় চলে হাজারো পণ্যবাহী ট্রাক, কাভার্ডভ্যান ও কনটেইনারবাহী ট্রেইলার। এই বিশাল যানবাহন প্রবাহের নিয়ন্ত্রণের বড় দায়িত্ব বহন করেন ট্রাফিক বিভাগে কর্মরত পুলিশ সার্জেন্টরা। তবে কর্তব্য পালন করতে গিয়ে তারা পড়ছেন একের পর এক দুর্ভোগ ও অবহেলার শিকার—যা সাধারণ মানুষের চোখে প্রায়ই ধরা পড়ে না।

 

বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীর ভেতরে বর্তমানে প্রশাসনিক জটিলতা ও পদশূন্যতার সমস্যা প্রকট। প্রায় ৪০০টিরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ পদ শূন্য থাকায় মাঠপর্যায়ের সার্জেন্টদের উপর পড়ছে অতিরিক্ত দায়িত্বের বোঝা। ফলে একজন সার্জেন্টকে অনেক সময় দ্বিগুণ বা তিনগুণ ডিউটি করতে হয়—সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ব্যস্ততম মোড়ে দাঁড়িয়ে যানজট নিয়ন্ত্রণ, দুর্ঘটনা সামলানো বা ভিআইপি মুভমেন্ট পরিচালনা করা পর্যন্ত সব দায়িত্বই পালন করতে হয় সীমিত জনবল নিয়ে।

 

সরঞ্জাম ও যানবাহনের ঘাটতিও রয়েছে তীব্রভাবে। অনেক থানায় পর্যাপ্ত যোগাযোগ যন্ত্র, সেফটি হেলমেট, জ্যাকেট বা বিশ্রামাগার নেই। রোদ-বৃষ্টি বা ঝড়—সব অবস্থাতেই খোলা আকাশের নিচে দায়িত্ব পালন করতে হয়। দিনভর পর্যাপ্ত পানি না পেয়ে কাজ করায় বহু সার্জেন্ট কিডনি ও রক্তচাপজনিত জটিলতায় ভুগছেন। গরমে মাথা ঘোরা, শীতে ঠান্ডায় অসুস্থ হওয়া তাদের নিত্যসঙ্গী, অথচ চিকিৎসা সুবিধা বা স্বাস্থ্য বিমা ব্যবস্থাও নেই বললেই চলে।

 

কম বেতন, অনিশ্চিত পদোন্নতি ও অতিরিক্ত দায়িত্ব সার্জেন্টদের মানসিক চাপ বাড়িয়ে তুলছে। তাদের অভিযোগ, সমাজে অনেক সময় অন্যায়ভাবে দুর্নীতির দায়ে দোষারোপ করা হয়, অথচ বাস্তবে তারা ন্যূনতম সুযোগ-সুবিধা নিয়েই কর্তব্য পালন করে যাচ্ছেন।

 

চট্টগ্রাম বন্দরের এক এলাকায় সম্প্রতি পুলিশের এক কর্মকর্তার ওপর হামলার ঘটনায় সার্জেন্টদের পেশাগত ঝুঁকির বিষয়টি আবারও আলোচনায় এসেছে। মাদক, অস্ত্র ও চোরাচালানবিরোধী অভিযানে গিয়ে অনেক সময় তাদের প্রাণনাশের আশঙ্কায়ও কাজ করতে হয়।

 

নাম প্রকাশ না করার শর্তে চট্টগ্রামের এক পুলিশ সার্জেন্ট বলেন,

 

“সকাল ৭টায় ডিউটিতে আসি, কখন রাত ১০টা হয়ে যায় টেরই পাই না। রাস্তায় ধুলো, ধোঁয়া, গাড়ির হর্ণ, মানুষের গালি—সব সহ্য করেও আমরা দায়িত্ব পালন করি। মাস শেষে যা পাই, তা দিয়ে সংসার চালানোই কষ্টকর। অথচ মানুষ ভাবে আমরা হয়তো অনেক সুবিধা পাই।”

 

বিশেষজ্ঞদের মতে, ট্রাফিক সার্জেন্টদের পর্যাপ্ত সরঞ্জাম, আধুনিক প্রযুক্তি, স্বাস্থ্যসেবা ও আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে চট্টগ্রাম জেলা ও নগরীর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ও সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলায় বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ওয়েবসাইট এর কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পুর্ণ বেআইনি
Design & Development BY ThemeNeed.Com