মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬, ০৬:০৭ পূর্বাহ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা
আলুর উৎপাদন বৃদ্ধি পাওয়ায় চাষিরা ন্যায্য মূল্য না পাওয়ায় সরকার আলু চাষীদের জন্য প্রণোদনা দেওয়ার পরিকল্পনা করছে বলে জানিয়েছেন কৃষি ও স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।
রোববার সচিবালয়ে কৃষি মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে কৃষির সার্বিক বিষয় নিয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এসব কথা বলেন।
কৃষি উপদেষ্টা জানান, দেশে ধান, আলু, পেঁয়াজ, শাকসবজি ও সরিষাসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্যের উৎপাদন উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। গত বছরের তুলনায় এ বছর ধানের উৎপাদন ৬ শতাংশ এবং আলুর উৎপাদন ১৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে উৎপাদন বেশি হওয়ায় আলুর বাজারমূল্য কমে গেছে, ফলে কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
তিনি বলেন, “কৃষকরা যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হন, সেজন্য সরকার আলু চাষীদের প্রণোদনা দেওয়ার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে।”
উপদেষ্টা আরও জানান, গত বছরের তুলনায় পেঁয়াজের উৎপাদন ২২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যার ফলে বাজারে পেঁয়াজের দাম বর্তমানে স্থিতিশীল রয়েছে। শাকসবজির উৎপাদনও ৪ শতাংশ বৃদ্ধি পাওয়ায় এর দামও মোটামুটি নিয়ন্ত্রণে আছে।
তিনি বলেন, “আমরা চাই কৃষিপণ্যের দাম স্থিতিশীল থাকুক। দাম একেবারে কমে গেলে কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এখন মাঘ মাস শুরু হয়েছে। এরপর ফাল্গুন ও চৈত্র মাসে সবজির দামে সাধারণত বেশি অস্থিরতা দেখা দেয়।”
কৃষি উপদেষ্টা জানান, চলতি মৌসুমে সরিষার উৎপাদন সবচেয়ে বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় ৮৬ শতাংশ বেশি। কৃষিপণ্য সংরক্ষণে সরকার ইতোমধ্যে দেশের ৬৪ জেলায় ১০০টি মিনি কোল্ড স্টোরেজ স্থাপন করেছে এবং নতুন করে আরও ১০০টি কোল্ড স্টোরেজ স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, “এ বছর নন-ইউরিয়া সারের মজুত ১৯৬১ সালের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে, যা কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রাখবে।”
ব্রিফিংকালে কৃষি সচিব ড. মোহাম্মদ এমদাদ উল্লাহ মিয়াসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।