শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২৬, ০৫:০৩ পূর্বাহ্ন
Oplus_131072 মোঃ রেজাউল হক রহমত
ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি
নবীনগরে এক ভূমি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে উৎকোচ গ্রহণের অভিযোগের পর এক মাসেরও বেশি সময় পার হলেও দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবর লিখিত আবেদন দেওয়ার পরও ভুক্তভোগী তার দেওয়া ঘুষের টাকা ফেরত পাননি, বরং অভিযুক্ত কর্মকর্তা আগের মতোই দায়িত্ব পালন করছেন নবীনগর সদর ভূমি অফিসে।
ভুক্তভোগী মো. রুবেল মিয়া অভিযোগ করেন, দরিকান্দী ইউনিয়ন ভূমি অফিসে কর্মরত অবস্থায় নায়েব মো. শামসুদ্দোহা তার কাছ থেকে সরকারি অনুমোদনের আশ্বাস দিয়ে নগদ ৭৯ হাজার টাকা উৎকোচ গ্রহণ করেন।
টাকা নেওয়ার পর অনুমোদন না দিয়ে একের পর এক অফিসে বদলি হয়ে যান ওই কর্মকর্তা। সর্বশেষ তিনি নবীনগর সদর ভূমি অফিসে উপ সহকারী কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত আছেন।
অভিযোগের প্রেক্ষিতে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) তদন্তের জন্য বিষয়টি জেলা প্রশাসনে পাঠানোর কথা বললেও মাঠপর্যায়ে এখনো কোনো তদন্ত কর্মকর্তা ভুক্তভোগীর সঙ্গে যোগাযোগ করেননি বলে জানিয়েছেন রুবেল মিয়া।
তার ভাষ্য,“আমি লিখিত আবেদন করেছি, অফিসে অফিসে ঘুরছি। কিন্তু আজ পর্যন্ত কেউ আমার বক্তব্য নিতে আসেনি। টাকা তো দূরের কথা, ন্যায়বিচারের আশাও কমে যাচ্ছে।”
এদিকে অভিযোগ ওঠার পরও অভিযুক্ত কর্মকর্তা নিয়মিত অফিস করছেন এবং তার বিরুদ্ধে কোনো ধরনের সাময়িক বরখাস্ত বা দায়িত্ব থেকে অব্যাহতির খবর পাওয়া যায়নি।
বিষয়টি স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সচেতন মহলের অভিযোগ, একজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বারবার ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ উঠলেও কেবল বদলি আর সময়ক্ষেপণ করে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার সংস্কৃতি চালু রয়েছে।
রতনপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ভিপি মারুফ বলেন,“এ ধরনের অভিযোগ নতুন নয়। আগেও বিচার সালিশ হয়েছে। কিন্তু দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা না থাকায় একই অভিযোগ বারবার ফিরে আসছে।”
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ভুক্তভোগী জানান, ভূমি সংক্রান্ত কাজ করতে গেলে নির্ধারিত ফি’র বাইরেও অতিরিক্ত টাকা দাবি করা হয়। টাকা না দিলে ফাইল আটকে রাখার অভিযোগও রয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে উপ সহকারী কর্মকর্তা মো. শামসুদ্দোহা আগের মতোই ঘুষ গ্রহণের বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
এ বিষয়ে নবীনগর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) খালিদ বিন মনসুরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান,
“বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। জেলা প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তবে প্রশাসনের এই বক্তব্যে সন্তুষ্ট নন ভুক্তভোগী ও স্থানীয়রা।
তাদের প্রশ্ন—
তদন্ত যদি দীর্ঘসূত্রতায় পড়ে থাকে, তাহলে কি অভিযুক্ত কর্মকর্তা প্রভাব খাটিয়ে সময় নিচ্ছেন?
আর তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কেন তাকে সংবেদনশীল দায়িত্বে বহাল রাখা হয়েছে?
সচেতন মহলের দাবি, ভূমি অফিসে দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তে নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে সাধারণ মানুষের আস্থা আরও নষ্ট হবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শুধু বিভাগীয় নয়, ফৌজদারি মামলার দাবিও উঠেছে।