
মৌলভীবাজার প্রতিনিধি : জেলাজুড়ে সত্য প্রকাশে আপসহীন, অনিয়ম-দুর্নীতি, মাদক ও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে সোচ্চার এবং সর্বমহলে গ্রহণযোগ্য হিসেবে পরিচিত সাংবাদিক মো. এহসানুল হককে (এহসান বিন মুজাহির) প্রকাশ্যে এক সশস্ত্র যুবক মোটরসাইকেল নিয়ে পিছু ধাওয়া করে কড়া নজরদারিতে রাখার অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনার পর নিজের ও পরিবারের চরম নিরাপত্তাহীনতার কথা উল্লেখ করে শ্রীমঙ্গল থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) দায়েরের আবেদন করা হয়েছে, যা বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন। ঘটনার প্রতিবাদে এবং সাংবাদিক এহসানের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবিতে স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি পর্যালোচনা ও পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণে শনিবার রাতেই শ্রীমঙ্গল প্রেস ক্লাবের জরুরি বৈঠক আহ্বান করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) আনুমানিক রাত ১১টা ২৫ মিনিটে এহসান বিন মুজাহির শহরের কালিঘাট রোড থেকে নিজ বাসভবন মুসলিমবাগের উদ্দেশ্যে রওনা হন। মুসলিমবাগ রাস্তায় প্রবেশ করা মাত্রই ‘ঢাকা মেট্রো ল-১২৮৩’ নম্বরের একটি ইয়ামাহা মোটরসাইকেল তার পিছু নেয়। এহসান নিজের বাইকের গতি বাড়ালে বা কমালে ওই সশস্ত্র আরোহীও সে অনুযায়ী গতি পরিবর্তন করতে থাকে। একই সময়ে সামনে থাকা একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ৩ জন রহস্যজনক যুবক তাকে লক্ষ্য করছিল।
পরিস্থিতি বেগতিক দেখে তিনি মুসলিমবাগ এলাকায় লন্ডন প্রবাসী তুহিন চৌধুরীর ভবনের সামনে থামেন। এ সময় তার প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক মাহমুদুল হাসান নাঈম ওই পথ দিয়ে যাওয়ার সময় এহসান তাকে বিষয়টি জানান। ঠিক তখনই বাইক আরোহী যুবকটি গাড়ির ইঞ্জিন বন্ধ করে কয়েক হাত দূরে দাঁড়িয়ে ফোনে বের করে টিপাটিপির ছলে তাদের ওপর কড়া নজরদারি চালাতে থাকে। বিপদ আসন্ন বুঝতে পেরে এহসান বিন মুজাহির কৌশলে বাইকের হেডলাইট বন্ধ করে অন্ধকারের মধ্যে গলির রাস্তায় ঢুকে কোনোমতে আত্মরক্ষা করেন।
প্রত্যক্ষদর্শী শিক্ষক নাঈম জানান, অজ্ঞাত ওই যুবকের কোমরের বামপাশে বেল্টসহ একটি আগ্নেয়াস্ত্র (পিস্তল) গোঁজা ছিল। ওই যুবকের পরনে ছিল থ্রি-কোয়ার্টার প্যান্ট, নেভি ব্লু টি-শার্ট এবং দুই পায়ে হাফ মোজা। তাকে ইতিপূর্বে কখনো ওই এলাকায় দেখা যায়নি। অনুসন্ধানী সাংবাদিক এহসান বিন মুজাহির দীর্ঘদিন ধরে মাদক, অনিয়ম ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে সাহসিকতার সঙ্গে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশ করে আসছেন। এর আগেও বিভিন্ন সময় সংবাদ প্রকাশের জেরে তিনি চরম হুমকির মুখে পড়েন।
মাদকের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশের জেরে ২০২৩ সালের ২৫ আগস্ট তার বাসভবনের গেট বাহির থেকে তালা মেরে আটকে রাখা হয় (জিডি নং- ১৩৫৩)। ওইদিন থানায় জিডি করা হয়। ২০২৪ সালের ২৬ নভেম্বর উপজেলার কালিঘাট চা বাগান এলাকায় পেশাগত কাজে যাওয়ার সময় মোটরসাইকেল নিয়ে পিছু ধাওয়া করে হামলার চেষ্টা চালানো হয়। তখনও জিডি করা হয়। জিডি নং- ১৫২৯।
২০২৫ সালের ২২ ডিসেম্বর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘নো ক্যাপশন’ নামের ভুয়া অ্যাকাউন্ট থেকে তাকে হত্যা করে লাশ গুমের হুমকি দেওয়া হয়। এ ঘটনায়ও থানায় জিডি করা হয়। জিডি নং- ১২৮০। অতীতে এসব ঘটনায় থানায় পৃথক ৩টি জিডি করা হলেও অপরাধীরা পার পেয়ে যাওয়ায় বারবার এমন ঘটনা ঘটছে বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
শ্রীমঙ্গল প্রেস ক্লাবের আহ্বায়ক সৈয়দ সালাউদ্দিন বলেন, ‘পেশাদার ও অনুসন্ধানী সাংবাদিকের ওপর এভাবে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে নজরদারি স্বাধীন সাংবাদিকতার ওপর সরাসরি আঘাত। পরিস্থিতি পর্যালোচনা ও কঠোর কর্মসূচি নির্ধারণের জন্য আজ রাতেই প্রেস ক্লাবের জরুরি সভা আহ্বান করা হয়েছে।’
স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা দ্রুততম সময়ে ওই অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী ও নেপথ্যের মূল হোতাদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন। অন্যথায় কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন।
শ্রীমঙ্গল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সরকার আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘জিডির আবেদনটি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। পুলিশ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদারকি করছে। সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে ওই সশস্ত্র যুবককে শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করতে পুলিশের টিম কাজ করছে।’
একজন গণমাধ্যমকর্মীকে নজরদারির রাখার বিষয়টি অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে মন্তব্য করেছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. জিয়াউর রহমান। তিনি জানান, ঘটনাটি অত্যন্ত উদ্বেগের। এ বিষয়ে দ্রুত ও কঠোর আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) সঙ্গে ইতোমধ্যে কথা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে সহকারী পুলিশ সুপারের (এএসপি) সঙ্গেও আলোচনা করা হবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: বিল্লাল হোসেন
www.e.bdprotidinkhabor.com
Copyright © 2026 বাংলাদেশ প্রতিদিন খবর. All rights reserved.