
উজ্জ্বল কুমার নওগাঁ জেলা প্রতিনিধিঃ
নওগাঁর মান্দা মহাদেবপুর ও বিভিন্ন উপজেলায় চাহিদার তুলনায় রাসায়নিক সারের সরকারি বরাদ্দ অপ্রতুল হওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে নওগাঁ-রাজশাহী মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন সাধারণ তৃণমূল কৃষকেরা।
বুধবার (১৪ অক্টোবর ২০২৬) সকাল ৯টার দিকে নওগাঁর মান্দা উপজেলার কালিকাপুর ইউনিয়নের জয়বাংলা মোড়ে অবস্থান নিয়ে তাঁরা সড়ক অবরোধ করেন।
এতে গুরুত্বপূর্ণ ওই মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরবর্তীতে স্থানীয় প্রশাসন, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও মান্দা থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে কৃষকদের সঙ্গে আলোচনা করে দাবি মেনে নেওয়ার আশ্বাস দিলে পরিস্থিতি শান্ত হয় এবং যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়।
বিক্ষুব্ধ কৃষকদের ভাষ্য, আগাম জাতের আলু, সরিষা, পেঁয়াজসহ শীতকালীন বিভিন্ন শাকসবজি চাষের জন্য তাঁরা জমি প্রস্তুত করছেন। এ মুহূর্তে জমিতে পর্যাপ্ত রাসায়নিক সার প্রয়োগ অপরিহার্য হলেও ডিলারের কাছ থেকে কোনো সার পাওয়া যাচ্ছে না আবার রাতের অন্ধকারে এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় সার পাচার হচ্ছে।
সময়মতো আতবধান, শাক সবজি আলু সরিষা কপি ছিশ বেগুন পেয়াজসহ বিভিন্ন মসজিদে সময় মত সার প্রয়োগ করতে না পারলে ফলন বিপর্যয় ও বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন তাঁরা।
মহাদেবপুর উপজেলা ৯ নং চেরাগপুর ইউনিয়নের ফুলবাড়ী বাগধানা রতনাপাড়া নলবল মাইবা-ছয়ঘাটি শরিফপুর বাগাচারা লক্ষ্মীপুর ভান্ডারপুর খদ্দনারায়নপুর চৌমাশিয়া সরকারপাড়া সাধারণ মানুষ ডিএপি পটাস ও ইউরিয়া সারের সংকটের কারনে কৃষক দুর্যোগ পোহাতে হচ্ছে। ছোট মুল্লুক গ্রামের কৃষক শ্রীমান আলি মোল্লা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, সার পাওয়ার আশায় ভোর রাত ৩টা থেকে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও তিনি কোনো সার পাননি।
একই গ্রামের কৃষক অখিল চন্দ্র জানান, ভরা মৌসুমে অন্তত ২৫ বস্তা সারের প্রয়োজন হলেও এক বস্তাও সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, কালিকাপুর ইউনিয়নে বর্তমানে ২ হাজার ৫০০ বস্তা ডিএপি, ২ হাজার ৫০০ বস্তা এমওপি (পটাশ) এবং ১ হাজার বস্তা টিএসপি সারের জরুরি চাহিদা রয়েছে। বিপরীতে অক্টোবর মাসের জন্য সরকারি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে মাত্র ২০০ বস্তা ডিএপি, ৯০ বস্তা টিএসপি ও ১৮২ বস্তা এমওপি সার—যা বাস্তব চাহিদার তুলনায় নগণ্য।
ইউনিয়নটিতে কেবল বিসিআইসির একজন ডিলার (মেসার্স আবুল এন্টারপ্রাইজ) রয়েছেন এবং বিএডিসির কোনো নিজস্ব ডিলার না থাকায় ডিলারভিত্তিক কোটায় বরাদ্দ আরও সংকুচিত হয়েছে।
এ বিষয়ে বিসিআইসির সার ডিলার আবুল হোসেন জানান, চাহিদার তুলনায় নামমাত্র সরকারি বরাদ্দ আসায় বিপুলসংখ্যক কৃষককে সার দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না, যার ফলে এ ধরনের বিশৃঙ্খল ও উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
মান্দা উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা সীমা কর্মকার বলেন, চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় কৃষকদের মাঝে সাময়িক অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।
তবে চলতি মাসেই অতিরিক্ত সার বরাদ্দের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। দ্রুততম সময়ে নতুন বরাদ্দ পৌঁছালে সংকট নিরসন হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: বিল্লাল হোসেন
www.e.bdprotidinkhabor.com
Copyright © 2026 বাংলাদেশ প্রতিদিন খবর. All rights reserved.