
উজ্জ্বল কুমার সরকার, নওগাঁ:
নওগাঁর মহাদেবপুর সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাঈদ হাসান তরফদার শাকিলের মালিকানাধীন পুকুরে বিষ প্রয়োগ করে প্রায় ৪০ লাখ টাকার মাছ নিধনের অভিযোগ উঠেছে।
সোমবার (২৪ আগস্ট) ভোর থেকে পুকুরে থাকা ছোট-বড় বিভিন্ন প্রজাতির মাছ মরে ভেসে উঠতে শুরু করে বলে জানিয়েছেন পুকুরের মালিক ও স্থানীয়রা।
দুপুরে চেয়ারম্যানের গ্রামের বাড়ি শালগ্রাম এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, পুকুরপাড়ে সারি সারি মিনি ট্রাকে বড় বড় পাঙ্গাস মাছ তোলা হচ্ছে। শ্রমিকদের দাবি, দুপুর পর্যন্ত ২৬টি ট্রাকে মাছ তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
শ্রমিকরা জানান, মরা মাছ থেকে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। এ কারণে বাজারে এসব মাছ বিক্রি করতে গিয়ে ক্রেতা পাওয়া যাচ্ছে না। কম দামেও মাছ বিক্রি করা কঠিন হয়ে পড়েছে বলে তারা জানান।
পুকুরে পাঙ্গাস ছাড়াও শিং, মাগুর, দেশি ফলিসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ মরে ভেসে উঠতে দেখা যায়। প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত শ্রমিকরা জাল টেনে পুকুর থেকে মরা মাছ তুলে আনছিলেন।
পুকুরের মালিক সাঈদ হাসান তরফদার শাকিল বলেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে একাধিক পুকুরে মাছ চাষ করছেন। আক্রান্ত পুকুরে প্রায় ১০ হাজার পাঙ্গাসের পোনা এবং অন্যান্য দামি প্রজাতির মাছের পোনা ছাড়া হয়েছিল। চলতি সপ্তাহেই মাছগুলো তুলে বিক্রি করার কথা ছিল।
তিনি বলেন, ভোর থেকে মাছগুলো মরে ভেসে উঠতে শুরু করে। পুকুরের তলদেশেও বিপুলসংখ্যক মাছ মরে পড়ে আছে। কেউ গ্যাস বড়ি বা বিষাক্ত কোনো পদার্থ প্রয়োগ করার কারণে মাছগুলো মারা যেতে পারে বলে তিনি ধারণা করছেন।
এ ঘটনায় তার ৪০ লাখ টাকারও বেশি ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
তবে প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত এ ঘটনায় থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়নি বলে জানান চেয়ারম্যান। মাছ তোলার কাজে ব্যস্ত থাকায় তিনি অভিযোগ করতে পারেননি বলেও জানান।
মহাদেবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওমর ফারুক বলেন, “অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ঘটনাটি বিষ প্রয়োগের কারণে ঘটেছে কি না, তা তদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: বিল্লাল হোসেন
www.e.bdprotidinkhabor.com
Copyright © 2026 বাংলাদেশ প্রতিদিন খবর. All rights reserved.