
উজ্জ্বল কুমার সরকার নওগাঁঃ
নওগাঁর মান্দায় এলজিইডি কার্যালয়ের এক কার্যসহকারীকে জিম্মি করে আপত্তিকর ভিডিও ধারণ, চাঁদা দাবি, হুমকি এবং জোরপূর্বক চেকে স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগে ব্ল্যাকমেইলিং চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় ভুক্তভোগীর ১ লাখ ২০ হাজার টাকার স্বাক্ষর করা একটি চেক উদ্ধার ও জব্দ করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—মান্দা উপজেলার কুসুম্বা মোড় এলাকার কনক কুমার (৩০), কুসুম্বা দক্ষিণপাড়া এলাকার সাজ্জাদ হোসেন (২৮) এবং বড়পই গ্রামের তানজিমা খাতুন (৪৪)।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, তানজিমা খাতুন দীর্ঘদিন ধরে মান্দা উপজেলা এলজিইডি কার্যালয়ের কার্যসহকারী মো. আলমগীর হোসেনের সঙ্গে দাপ্তরিক কাজের অজুহাতে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করছিলেন। গত ৭ আগস্ট রাতে তিনি আলমগীরকে ফোন করে দেখা করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন।
পরদিন ৮ আগস্ট সকাল সাড়ে ১০টার দিকে আলমগীর কুসুম্বা মসজিদ এলাকায় গেলে তানজিমার সহযোগী কনক কুমার, সাজ্জাদ হোসেনসহ কয়েকজন তাকে চা খাওয়ার কথা বলে একটি টিনশেড ঘরে নিয়ে যান।
অভিযোগ রয়েছে, সেখানে চা ও সিগারেটের সঙ্গে চেতনানাশক বা নেশাজাতীয় দ্রব্য খাইয়ে আলমগীরকে কাবু করা হয়। পরে পাশের একটি মাটির ঘরে নিয়ে তানজিমা খাতুনকে দিয়ে তাকে জড়িয়ে ধরানো এবং জোরপূর্বক বিবস্ত্র করে মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করা হয়।
পরবর্তীতে ওই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে এবং প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আলমগীরের কাছে ১০ লাখ টাকা দাবি করে চক্রটি। এ সময় তার মানিব্যাগ থেকে নগদ ৬ হাজার ৭০০ টাকা এবং বিকাশ অ্যাকাউন্ট থেকে আরও ৫ হাজার ২০০ টাকা নেওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
একপর্যায়ে মান-সম্মানের ভয়ে আলমগীর ১ লাখ ২০ হাজার টাকা দিতে রাজি হন। পরে স্বজনের মাধ্যমে ব্যাংকের চেকের বই আনানো হলে অভিযুক্তরা চাপ প্রয়োগ করে ১ লাখ ২০ হাজার টাকার একটি চেক, একটি ফাঁকা চেক এবং ১০০ টাকা মূল্যমানের তিনটি ফাঁকা নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে জোরপূর্বক তার স্বাক্ষর নেয়।
রোববার (৯ আগস্ট) সকাল পৌনে ১১টার দিকে অভিযুক্তরা অগ্রণী ব্যাংক পিএলসি, সতীহাট শাখা থেকে ওই চেকের মাধ্যমে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা উত্তোলনের জন্য গেলে বিষয়টি পুলিশকে জানান ভুক্তভোগী আলমগীর।
পরে পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় মান্দা থানা পুলিশ ব্যাংকটিতে অভিযান চালিয়ে কনক কুমার ও সাজ্জাদ হোসেনকে হাতেনাতে আটক করে।
পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তাদের সহযোগী সুমন ও ইসরাফিল পালিয়ে যায়। এ সময় ব্যাংকের ক্যাশ কাউন্টার থেকে ভুক্তভোগীর জমা দেওয়া ১ লাখ ২০ হাজার টাকার চেকটি উদ্ধার ও জব্দ করা হয়। পরবর্তীতে পৃথক অভিযান চালিয়ে এ ঘটনায় অভিযুক্ত তানজিমা খাতুনকেও গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী কার্যসহকারী মো. আলমগীর হোসেন বাদী হয়ে মান্দা থানায় মামলা দায়ের করেছেন। মামলার অপর আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান অব্যাহত রেখেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটির সঙ্গে জড়িত অন্যান্য ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে তদন্ত চলছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: বিল্লাল হোসেন
www.e.bdprotidinkhabor.com
Copyright © 2026 বাংলাদেশ প্রতিদিন খবর. All rights reserved.