
মোঃ সহিদুল ইসলাম ধামইরহাট নওগাঁ প্রতিনিধিঃ
নিজের গর্ভধারিণী মাকে বাড়ি থেকে বের করে দিয়ে চরম নিষ্ঠুরতার পরিচয় দিয়েছিলেন ছেলে সোহাগ। দীর্ঘদিন অসহায় অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করা সেই মাকে অবশেষে তার নিজের ভিটায় ফিরিয়ে দিয়ে অনন্য মানবিকতার নজির স্থাপন করলেন নওগাঁর ধামইরহাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মিন্টু রহমান।
ঘটনাটি ঘটেছে নওগাঁর ধামইরহাট উপজেলার চকউমর গ্রামে। ভুক্তভোগী বৃদ্ধা আনোয়ারা বেগম ওই গ্রামের মৃত বজলুর রহমানের স্ত্রী।
জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরেই নিজের ছেলে সোহাগের হাতে নানাভাবে নির্যাতনের শিকার হচ্ছিলেন বৃদ্ধা আনোয়ারা বেগম। এক পর্যায়ে গত ছয় মাস আগে অমানবিক নির্যাতনের মাধ্যমে মাকে বাড়ি থেকে বের করে দেয় ছেলে সোহাগ। এরপর থেকে বৃদ্ধা মা খোলা আকাশের নিচে কিংবা অন্যের দুয়ারে দুয়ারে ঘুরে জীবন অতিবাহিত করছিলেন। বিচার পাওয়ার আশায় ছয় মাস ধরে দ্বারে দ্বারে ঘুরেও কোনো সুরাহা পাননি তিনি।
অবশেষে কোনো উপায় না পেয়ে গত রবিবার (২৬ জুলাই) রাতে ধামইরহাট থানায় গিয়ে ছেলে সোহাগের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন ভুক্তভোগী মা। অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ওসি মিন্টু রহমান বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে গ্রহণ করেন। তিনি দেরি না করে ওই রাতেই বিশেষ উদ্যোগ নিয়ে বৃদ্ধা মা আনোয়ারা বেগমকে সঙ্গে নিয়ে সরাসরি তার বাড়িতে যান।
ওসি মিন্টু রহমানের উপস্থিতিতে এবং কঠোর হস্তক্ষেপে ছেলে সোহাগ তার ভুল বুঝতে পেরে মাকে আবারো বাড়িতে তুলে নিতে বাধ্য হয়। বৃদ্ধা মা নিজের হারানো আবাসে ফিরে যেতে পেরে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন এবং ওসি সাহেবের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
এ বিষয়ে ধামইরহাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মিন্টু রহমান বলেন, “মায়ের চেয়ে বড় কোনো সম্পদ পৃথিবীতে নেই। একজন মা নিজ ছেলের হাতে নির্যাতিত হবেন এবং বাড়ি থেকে বের হয়ে মানবেতর জীবন কাটাবেন, এটি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। আমি আমার মানবিক ও পেশাগত দায়িত্ববোধ থেকেই মাকে তার বাড়িতে ফিরিয়ে দিয়েছি। আমি চাই, তিনি যেন এই বাড়িতে শান্তিতে এবং নিরাপদে থাকতে পারেন। ভবিষ্যতে তার ওপর আর কোনো প্রকার নির্যাতন হলে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ওসি সাহেবের এই দ্রুত ও মানবিক পদক্ষেপে এলাকাবাসী ও সুশীল সমাজে ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে। স্থানীয়রা বলছেন, একজন পুলিশের এমন মানবিক আচরণ সমাজে অপরাধ প্রবণতা কমাতে এবং সামাজিক মূল্যবোধ জাগিয়ে তুলতে সহায়ক হবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: বিল্লাল হোসেন
www.e.bdprotidinkhabor.com
Copyright © 2026 বাংলাদেশ প্রতিদিন খবর. All rights reserved.