
মো. সেলিম উদ্দিন খাঁন
বান্দরবান জেলার লামা উপজেলায় এক সাংবাদিকের বাসায় ডাকাতি হয়েছে। শনিবার ভোরে উপজেলার আজিজনগর ইউনিয়নের রোডপাড়া এলাকার সাংবাদিক কায়সার হামিদের বাড়িতে এ ডাকাতির ঘটনা ঘটে।
সাংবাদিক কায়সার হামিদ সমকাল পত্রিকার লোহাগাড়া উপজেলার প্রতিনিধি ও লোহাগাড়া প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক। চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের পাশে অবস্থিত অত্যন্ত ব্যস্ত ও জনবহুল এলাকায় এমন দুঃসাহসিক ডাকাতির ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।
সাংবাদিক কায়সার হামিদের বাবা জানান, ভোর ৪টার দিকে ৮-১০ জনের একটি ডাকাত দল তাদের বাড়িতে হানা দেয়। এ সময় তিনজন ডাকাত ছাদ বেয়ে ঘরের ভেতরে ঢোকে। পরে তারা অস্ত্রের মুখে তাকে ও তার স্ত্রীকে জিম্মি করে আলমারি ভেঙে নগদ ১ লাখ ৪৫ হাজার টাকা, লক্ষাধিক টাকার স্বর্ণালংকার এবং একটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন নিয়ে যায়। এ সময় দলের অন্য সদস্যরা ঘরের বাইরে অবস্থান করে পাশের ঘরগুলোর গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করছিল, যাতে কেউ বাইরে বের হতে না পারে।
সাংবাদিক কায়সার হামিদ বলেন, ‘কর্মসূত্রে আমি লোহাগাড়ার বাসায় অবস্থান করছিলাম। বাড়িতে বৃদ্ধ বাবা-মা ছিলেন। তাদের কাছে গরু বিক্রির নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার ছিল।’ তিনি আক্ষেপ করে বলেন, রাত সাড়ে ৩টা থেকে ৪টা ১৩ মিনিট পর্যন্ত আমি আজিজনগর পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জকে ১৫ বার কল দিয়েছি। তিনি কোনো কল রিসিভ করেননি। পরে রাত ৪টা ১৫ মিনিটে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল দিলে লামা থানার মাধ্যমে আজিজনগর পুলিশ ক্যাম্প ইনচার্জের সঙ্গে যোগাযোগ করে দেয়। আজিজনগর পুলিশ সকাল সাড়ে ৭টায় ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। আজিজনগর পুলিশ ক্যাম্প থেকে আমার বাড়ির দূরত্ব এক কিলোমিটারেরও কম। এমন পুলিশি সেবায় আমরা হতবাক।
স্থানীয় সাংবাদিক নাজিম উদ্দিন রানা তার ফেসবুক পোস্টে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে জানান, ঘটনা চলাকালে আজিজনগর পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জকে অন্তত ১০ বার ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি; বরং বারবার কল কেটে দিয়েছেন। মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশের এমন উদাসীনতা ও ব্যর্থতা নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে তীব্র সমালোচনা চলছে।
মহাসড়কের পাশে সাংবাদিকের বাড়িতে সংঘটিত এ ডাকাতির ঘটনায় লোহাগাড়া ও বান্দরবানের সাংবাদিক সমাজ এবং স্থানীয় সচেতন মহল তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। তারা অবিলম্বে ডাকাতির সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তার, লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধার এবং দায়িত্বে অবহেলাকারী পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
আজিজনগর পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ আমিনুর রাহিম বলেন, ‘আমরাও তো মানুষ। ভোররাতে ঘুমিয়ে পড়েছিলাম। পরে বিষয়টি জানতে পেরে ৩০-৪০ মিনিটের মধ্যে ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করি।
এ বিষয়ে লামা থানার ওসি শাহজাহান কামাল বলেন, বিষয়টি জানার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ সদস্যদের ওই বাড়িতে পাঠানো হয়েছে। অসহযোগিতার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ফাঁড়ির ইনচার্জকে ইতিমধ্যে বিষয়টি নিয়ে বকাঝকা করা হয়েছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: বিল্লাল হোসেন
www.e.bdprotidinkhabor.com
Copyright © 2026 বাংলাদেশ প্রতিদিন খবর. All rights reserved.