
মো. সেলিম উদ্দিন খাঁন
লামা বনবিভাগের আওতাধীন সীমান্তবর্তী ডলুছড়ি রেঞ্জের সরই বন ক্যাম্পের বিট কমকর্তা ও অবৈধ কাঠ পাচারকারি সিন্ডিকেট চক্রের সদস্যদের যোগসাজশে চলছে অবৈধ কাঠ পাচারের হিড়িক। গোপন সূত্রে জানা যায়,সরই বিট কমকর্তা ও অবৈধ কাঠ পাচারকারি সিন্ডিকেটের সদস্যদের যোগসাজশে প্রতিদিন সন্ধ্যার পর থেকে শুরু হয় ১০০/১৫০ গাড়ি অবৈধ কাঠ ও জ্বালানি লাকড়ি পাচারের কার্যক্রম। সরই বন ক্যাম্পের লুল্যাইং ও লম্বাখোলা নোয়াপাড়া লেমুছড়ি এলাকায় বিশাল বড় আকারের সেগুন/গামার/আকাশমনি বাগান কেটে সাবাড় করেছে বিট কমকর্তা করিমের সহযোগিতায় কেটে সাবাড় করেছে বনখেকোরা। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নাম গোপন রাখা বেশ কয়েকজন কাঠ ও জ্বালানি লাকড়ি ব্যবসায়ীরা বলেন, সরই বিট কমকর্তা করিমকে টাকা দিয়েই আমরা তারপরে কাঠ নিয়ে যাই, নাম না বলা আরেক ব্যবসায়ী বলেন আমরা গাছ খাটতেছি টাকাও দিচ্ছি এইখানে সাংবাদিকের কাজ কি..? গাছের গাড়ী আটক করলে বনবিভাগ করবে আপনাদের কি সমস্যা আমরা সরই বনক্যাম্পের মিয়া করিমকে টাকা দিয়ে মাল নিয়ে যাচ্ছি। এখন প্রশ্ন থাকে, এই টাকা কি সরকারি রাজস্ব খাতে যাই নাকি সরই বিট কমকর্তা করিম ও বনকর্মী এবং বন প্রহরীদের মধ্যে ভাগ বাটোয়ারা হয় ....??। স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি সরই বিট কমকর্তা করিম অবৈধ কাঠ পাচারকরি সিন্ডিকেট সদস্যদের রাতের অন্ধকারে কাঠ পাচারের সহযোগিতা করা কিসের লক্ষণ ...?? সরকার হারাচ্ছে রাজস্ব...??
রাষ্ট্রের দায়িত্ব থাকা রক্ষক যখন ভক্ষকের রূপ ধারণ করে সেইখানে বন-সম্পদ ও সর্বস্তরের জনসাধারণের আস্থা দুটি হুমকির মুখে পড়বে। বাংলাদেশের বনসম্পদ সংরক্ষণে প্রণীত , বন আইন ১৯২৭ (বাংলাদেশ সংশোধিত) অনুযায়ী সংরক্ষিত বনাঞ্চল থেকে অনুমতি ছাড়া গাছ কাটা, অপসারণ, মজুত বা পরিবহন দণ্ডনীয় অপরাধ। আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় অবৈধভাবে বনজ সম্পদ আহরণ, সংরক্ষণ বা পাচারের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলা, অর্থদণ্ড এবং কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।
এ ছাড়া কাঠ পরিবহনের ক্ষেত্রে বৈধ পারমিট ট্রানজিট পাস বাধ্যতামূলক। স্থানীয় সূত্রের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে লামার পার্শ্ববর্তী লোহাগাড়া একটি প্রভাবশালী চক্র গোপনে বনাঞ্চল থেকে কাঠ কেটে বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত টহল, স্থানীয় জনসম্পৃক্ততা এবং আইন প্রয়োগে কঠোরতা বৃদ্ধি না করলে লামার ডলুছড়ি রেঞ্জের বন উজাড় রোধ কঠিন হবে। সাম্প্রতিক সময়ে লামা বন বিভাগের আওতায়ধীন সকল রেঞ্জ কমকর্তার তৎপরতার ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হলেও টেকসই ফল পেতে হলে অবৈধ কাঠ পাচারকারি চক্রের মূল হোতাদের আইনের আওতায় আনা জরুরি। অন্যথায় বনসম্পদ রক্ষা ও পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়বে। লামা বনবিভাগের আওতাধীন ডলুছড়ি রেঞ্জের কেয়াজুপাড়া বিট কমকর্তা করিম সাহেবের নাকি অনেক ক্ষমতা সাংবাদিকরা তার কিছুই করতে পারবে না...!! তাহলে এখন প্রশ্ন সরই বিট কমকর্তা করিম সাহেব কি লামা বিভাগীয় বন কর্মকর্তা ও চট্টগ্রাম বন সংরক্ষকের চেয়ে ও ক্ষমতাবান...??।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: বিল্লাল হোসেন
www.e.bdprotidinkhabor.com
Copyright © 2026 বাংলাদেশ প্রতিদিন খবর. All rights reserved.