নওগাঁ :
নওগাঁর মহাদেবপুরে বিরোধীয় জমির দখল নিতে একজন ইউপি মেম্বারের নেতৃত্বে বাড়ির স্থাপনা ভেঙ্গে ফেলে আঙ্গিনায় বেড়া দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার খাজুর ইউনিয়নের ওই মেম্বার সামছুল আলম ভাংচুরের কথা স্বীকারও করেছেন। প্রকাশ্য দিবালোকে বাড়ির ভীতর ঢুকে এ ধরনের ভাংচুরে ও অবৈধ দখলের ঘটনায় এলাকার লোকজন আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। এই অবস্থায় ভূক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা মানবেতর জীবন যাপন করছেন। এক সপ্তাহ ধরে তাদের বাড়িতে ঢোকা, বের হওয়া ও রান্না বান্না দারুনভাবে ব্যহত হচ্ছে। এর বিচার চাইতে তারা এখন দ্বারে দ্বারে ধর্না দিচ্ছেন।
ওই ইউনিয়নের দেবীপুর নীচপাড়া গ্রামের মৃত কামাল হোসেনের ছেলে আমিনুল ইসলাম অভিযোগ করেন যে, তার ভাতিজা মৃত ইব্রাহিম মন্ডলের ছেলে কামরুজ্জামানের সাথে জমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। গত শনিবার (১০ জানুয়ারি) সকালে তিনি স্বপরিবারে মাঠে গেলে বাড়িতে কেউ না থাকার সুবাদে ইউপি মেম্বার সামছুল আলমের নেতৃত্বে কামরুজ্জামান, তার ছেলে আশিক, মৃত সবিজের ছেলে মোজাহারসহ আরো অনেকে আমিনুলের বাড়িতে ঢুকে ব্যাপক ভাংচুর চালায়। এমনকি তারা বাড়ির রান্নাঘরও ভেঙ্গে গুড়িয়ে দেয়। এছাড়া আঙ্গিনার মাঝখানে বেড়া দিয়ে জমির দখল নেয়ার চেষ্টা চালায়।
জানতে চাইলে প্রতিপক্ষ কামরুজ্জামান জানান, আমিনুল ইসলামের সাথে তার জমি নিয়ে বিরোধ ছিল। এনিয়ে তিনি থানায় অভিযোগ দেন। থানা পুলিশের নির্দেশে জমির মাপযোখ করা হলে তিনি আমিনুলের দখল থেকে পৌনে এক শতক জমি পান। সে জমিই তিনি দখল করেছেন।
আমিনুল অভিযোগ করেন যে, সামছুল মেম্বারের কারসাজিতে তার একটি দলিল অগ্রাহ্য করে তার জমি কম দেখানো হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে কামরুজ্জামান তার কাছ থেকে কোন জমিই পাবেন না।
মেম্বার সামছুল আলম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান যে, জমি চুড়ান্ত মাপার দিন গত শনিবার আমিনুল বাড়িতে ছিলনা। তাই তাদের অনুপস্থিতিতেই জমির দখল প্রকৃত মালিককে দেয়া হয়েছে। একমাত্র আদালত ছাড়া একজন মেম্বার হিসেবে তিনি এরুপ দখল কার্য সম্পাদন করতে পারেন কিনা, তার কোন সদুত্তর তিনি দিতে পারেননি।
মহাদেবপুর থানার এএসআই সানোয়ার হোসেন জানান, তিন মাস আগে কামরুজ্জামান জমি সংক্রান্ত একটি অভিযোগ দিয়েছিলেন। তিনি সেটা স্থানীয়ভাবে মাপজোখ করে মিমাংশার কথা বলেছিলেন। কিন্তু মেম্বার কখনোই কারও জমি দখল করে দিতে পারেন না। এজন্য উপযুক্ত আদালতের স্মরণাপন্ন হতে হবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: বিল্লাল হোসেন
www.e.bdprotidinkhabor.com
Copyright © 2026 বাংলাদেশ প্রতিদিন খবর. All rights reserved.