প্রিন্ট এর তারিখঃ জানুয়ারী ১৭, ২০২৬, ৩:০০ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ জানুয়ারি ১৬, ২০২৬, ৮:৫৭ অপরাহ্ণ

সোহেল খান দূর্জয় নেত্রকোনা :
নেত্রকোনা পৌরসভায় পৌর প্রশাসক হিসেবে যোগদানের পর থেকেই পৌরসভাকে স্বচ্ছ, দুর্ণীতি মুক্ত এবং জনবান্ধব পৌরসভা হিসেবে গড়তে দিন-রাত কাজ করে যাচ্ছেন তিনি।নেত্রকোনা পৌরসভায় তার যোগদানের পর পরই পৌরসভার বিভিন্ন স্তরের মানুষের সাথে মতবিনিময়কালে দেখা গেছে নির্ভীক, নিরহংকার এবং সদালাপী এই মানুষটির মনে রয়েছে নানান স্বপ্ন ও উদ্ভাবনী ভাবনা যা তিনি বাস্তবায়ন করার জন্য বদ্ধপরিকর।
সরকারের সকল এজেন্ডা বাস্তবায়নের পাশাপাশি সমাজের আপামর মানুষের সার্বিক কল্যাণে নিরন্তর ব্যস্ত থাকেন এই পৌর প্রশাসক। ইতোমধ্যে তিনি ও তার টিম সারা পৌরসভায় ব্যাপক সুনাম অর্জন করেছেন। পৌরসভার সেবা গ্রহীতাগণ পৌরসভার কোনো সেবা পেতে বিলম্বিত হলে সরাসরি অভিযোগ জানাতে পারেন পৌর প্রশাসকের মোবাইল নম্বরে। এতক্ষণ ধরে বলছিলাম নেত্রকোনা পৌরসভার পৌর প্রশাসক মোঃ আরিফুল ইসলাম সরদারের কথা। কিছু মানুষ নিজেদের কর্মগুনে জনমনে স্থান করে নিয়েছেন। তেমনি একজন নেত্রকোনা পৌর প্রশাসক আরিফুল ইসলাম সরদার। প্রশাসনের কাজে তিনি যেমন দক্ষ তেমনি একজন মানবিক ব্যক্তিও।
তিনি খুব কম সময় ধরে নেত্রকোনায় আসলেও নেত্রকোনা পৌরসভার মানুষের জন্য অনেক পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন। বিশেষ করে পৌরসভায় তার দীর্ঘস্থায়ী পরিকল্পনা পরিকল্পিতভাবে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে । তাঁর নতুন নতুন চিন্তা ও দীর্ঘস্থায়ী পরিকল্পনা নেত্রকোনা পৌরসভাকে দাড় করিয়েছে এক নতুন মাত্রায়।
জানা যায়, ১লা জানুয়ারি ১৯৮৩ সালে গোপালগঞ্জ জেলার কাশিয়ানী উপজেলার শুক্তা গ্রামের বাসিন্দা পিতা আ.স.ম মঈনুদ্দিন সরদারের ঘর আলোকিত করে মাতা মমতাজ বেগমের গর্ভে জন্মগ্রহণ করেন তিনি।আরিফুল ইসলাম সরদার তিনি যশোর জিলা স্কুল থেকে এসএসসি, যশোর ক্যান্টনমেন্ট কলেজ থেকে এইচএসসি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মৃত্তিকা, পানি ও পরিবেশ বিভাগ থেকে অনার্স, এবং মাস্টার্স সম্পন্ন করে ২৯ তম বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারে উত্তীর্ণ হয়ে চাকুরী জীবনে যোগদানের পর থেকেই মেধা ও যোগ্যতা আর দায়িত্ববোধের প্রমান তিনি জয় করে নিয়েছেন মানুষের হৃদয়। আরও জানা যায়, তিনি চাকুরী জীবনের শুরুতেই ২০১১ সালে কুমিল্লা জেলায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ( সহকারী কমিশনার ) হিসেবে চাকুরীতে যোগদান করেন। পরবর্তীতে তিনি হাটহাজারী উপজেলায় সহকারী কমিশনার (ভূমি),নোয়াখালী সদর উপজেলায় ৩ বছর ৩ মাস উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবং ২০১৯ সালে চট্টগ্রাম বিভাগে প্রাথমিক শিক্ষা পদকে শ্রেষ্ঠ উপজেলা নির্বাহী অফিসার নির্বাচিত হন, এবং পরবর্তীতে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক হিসেবে কুমিল্লায় ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আশ্রয়ন প্রকল্পে সুনামের সহিত চাকুরী করেন,এবং ২০২৫ সালে ৭ জানুয়ারি নেত্রকোনা জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে স্হানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালকের দায়িত্ব গ্রহণ করেন ও অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে নেত্রকোনা পৌরসভার প্রশাসক হিসেবে তিনি দায়িত্ব পালন করছেন।ব্যক্তি জীবনে তিনি বিবাহিত, জানা যায়, পৌরসভার প্রশাসক আরিফুল ইসলাম সরদারের সহধর্মিনী মিথিলা জাহান নীপা নেত্রকোনা জেলা জজ আদালতের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ।
নেত্রকোনা পৌর প্রশাসক মোঃ আরিফুল ইসলাম সরদার নেত্রকোনা পৌরসভায় প্রশাসক হিসেবে যোগদান করেই তার প্রতিটি কর্মকান্ডে জনগণকে সম্পৃক্ত করে সাজাতে শুরু করে উন্নয়নের মহাপরিকল্পনা এবং জনগণকে সম্পৃক্ত করে বাস্তবায়ন করতে থাকে একের পর এক উন্নয়ন কার্যক্রম। গৎবাঁধা চিন্তাভাবনা থেকে বেরিয়ে এসে, চিন্তার সংস্কার করে সৃজনশীল উপায়ে জনস্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে পরিচালিত হচ্ছে পৌরসভার সকল কার্যক্রম।
এছাড়াও জনবান্ধব পৌরসভা গড়ার অভিপ্রায়ে নেত্রকোনা পৌরসভার প্রশাসকের দ্বারায় কিছু উন্নয়ন মূলক কর্মকান্ড নীচে তুলে ধরা হয়েছে, বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষের মতামতের ভিত্তিতে যেমন, সাতপাই সরকারি কলেজ হতে রেলক্রসিং পর্যন্ত আরসিসি রাস্তা নির্মাণ, নিউটাউন পুকুর পাড়ের রাস্তা আরসিসি দ্বারা নির্মাণ, বারহাট্টা রোড হতে রাজুর বাজার পর্যন্ত আরসিসি রাস্তা নির্মাণ,মোক্তারপাড়া মেইন রোডের রাস্তা আরসিসি দ্বারা নির্মাণ, সদর হাসপাতালের রাস্তা আরসিসি দ্বারা নির্মাণ,গজিনপুর মার্কাস থেকে পুকুরিয়া পর্যন্ত রাস্তা আরসিসি দ্বারা নির্মাণ, মঈনপুরের বিভিন্ন রাস্তা আরসিসি দ্বারা নির্মাণ,পৌর এলাকার বিভিন্ন ব্রীজ সংস্কার সহ রংকরণ, ধলাই নদী সংস্কার সহ দুটি বড় সাকু নির্মাণ, বড় বাজার থেকে পৌরসভা পর্যন্ত রাস্তা সংস্কার, পৌর ভবন সৌন্দর্য বর্ধন করণ, ইসলামপুর মোড় থেকে অগ্রণী ব্যাংক ও ইসলামপুর মোড় থেকে অজহর রোড পান মহাল পর্যন্ত রাস্তা আরসিসি দ্বারা নির্মাণ, পৌর এলাকায় প্রায় ৪ কিলোমিটার বিদ্যুৎ লাইন সম্প্রসারণ করণ, এছাড়া এডিপির অর্থায়নে বিভিন্ন ওয়ার্ডে জন সাধারণের চাহিদা মোতাবেক সিসি রাস্তা ও ড্রেইন নির্মাণ করণ, পৌরসভার বিভিন্ন স্হানে ১৩টি ডাস্টবিন স্হাপন, ও টিআর কর্মসূচির আওতায় পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ডে রাস্তা সলিং করণ।আরও জানা যায়, নেত্রকোনা পৌরসভার বিভিন্ন হিসাবের বিপরীতে বকেয়া বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করেছেন পঞ্চান্ন লাখ একান্ন হাজার পাচঁশত নয় টাকা, নেত্রকোনা পৌর এলাকার বিভিন্ন রাস্তার রোড লাইন সম্প্রসারণ করণ, পৌর এলাকার বিভিন্ন রাস্তায় পুরাতন রোড লাইনের তার পরিবর্তন করণ। এদিকে পৌরসভার সচেতন মহলের মতে এভাবে বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষকে সম্পৃক্ত করে পৌরসভার উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রনয়ন এই পৌরসভায় এটিই প্রথম, এতে করে সরকারি কাজের প্রতি মানুষের আগ্রহ, সচেতনতা যেমন বাড়বে তেমনি দায়িত্ববোধও বেড়ে যাবে এতে কোনই সন্দেহ নাই। এছাড়াও পৌর প্রশাসকের সাথে কোনো বিশেষ প্রয়োজনে দেখা করতে চেয়ে সুযোগ পাওয়া যায়নি এমন ঘটনা বিরল।
তার অফিস কক্ষে গেলে দেখা যায় প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ তার সাথে দেখা করতে আসছেন বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে। অসীম ধৈর্য নিয়ে পৌর প্রশাসক সাক্ষাৎ প্রত্যাশী এসব মানুষের কুশলাদি জিজ্ঞাসা করে তাদের সমস্যা বা দুর্ভোগের কার্যকর সমাধানে যথাসাধ্য চেষ্টা করছেন প্রতিনিয়ত। নেত্রকোনা পৌরসভাকে দেশের একটি অন্যতম শীর্ষস্থানীয় পৌরসভায় পরিণত করতে চান তিনি।