প্রিন্ট এর তারিখঃ জানুয়ারী ১৬, ২০২৬, ৮:৩২ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ জানুয়ারি ১২, ২০২৬, ১০:৩৫ অপরাহ্ণ
নেত্রকোনার খালিয়াজুরী বিএনপির সভাপতিসহ ৫ নেতার বিরুদ্ধে কোটি টাকা চাঁদাবাজির অভিযোগ

সোহেল খান দূর্জয় নেত্রকোনা :
নেত্রকোনার খালিয়াজুরী উপজেলায় বিএনপির সভাপতি মো. আব্দুর রউফ স্বাধীনসহ ৫ নেতার বিরুদ্ধে লেপসিয়া বাজার থেকে কোটি টাকা চাঁদাবাজি ও জলমহাল দখল করে লুটপাটে অভিযোগ ওঠেছে। গত ৭ জানুয়ারি বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
অভিযোগকারীরা হলেন, জেলার খালিয়াজুরী উপজেলার বল্লী গ্রামের মো. আক্তারুজ্জামান চৌধুরী এবং মোহনগঞ্জ উপজেলার কলুংকা গ্রামের জাহাঙ্গীর আলম খান। তারা দুজনই নিজেদের বিএনপির সক্রিয় কর্মী বলে দাবি করেছেন।
লিখিত অভিযোগে বলা হয়, জেলার খালিয়াজুরী উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. আব্দুর রউফ স্বাধীন, সহসভাপতি ইদ্রিছ আলী মোল্লা, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তরিকুজ্জামান তরু, সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা জিয়া উদ্দিন এবং চাকুয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আলকাছ মিয়া ফাইভ স্টার গ্রুপ পরিচালনা করছেন। স্থানীয়ভাবে “সুপার ফাইভ বাহিনী”নামে গ্রুপটি পরিচিত।
অভিযোগ অনুযায়ী, এই গ্রুপটি দলীয় প্রভাব খাটিয়ে জলমহাল, ফিসারী, বাজার ইজারা, টেন্ডার (পিআইসি), এমনকি প্রশাসনিক দপ্তরকেন্দ্রিক কর্মকাণ্ডে চাঁদাবাজি ও নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে চলছে। উপজেলার লেপসিয়া বাজার থেকে নিরীহ ব্যবসায়ীদের নিকট থেকে প্রায় এক কোটি টাকা চাঁদা আদায় করেছে। এছাড়া খালিয়াজুরী উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তর ঘিরেও চাঁদাবাজি করছে গ্রুপটি।
ভুক্তভোগীরা অভিযোগে বলেন, উপজেলার রানীচাপুর গ্রুপ ফিসারী, মরানদী (মরাগাঙ), চুনাই গ্রুপ ফিসারী, ধনুনদী (গাগলাজুর থেকে ধনপুর অংশ), রৌয়াদিঘা ফিসারী, নাজিরপুর-মুরাদপুর গ্রুপ ফিসারীসহ একাধিক জলমহাল বর্তমানে ওই গ্রুপটির নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ভুক্তভোগী আক্তারুজ্জামান ও জাহাঙ্গীর খান বলেন, রানীচাপুর গ্রুপ ফিসারীটিতে বাঁশ-কাঠা দিয়ে দিয়ে মাছের আশ্রয়স্থল তৈরি, নৌকা কেনা, পাহারদার খরচসহ ২৫ লাখ টাকা বিনিয়োগ করেছি। কিছুদিন পর মাছ ধরা শুরু হবে।
কিন্তু সম্প্রতি ওই গ্রুপের লোকজন হামলা চালিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে আমাদেরকে ফিসারি থেকে উচ্ছেদ করেছে। প্রশাসনসহ সব জায়গায় জানিয়েছি,কোথাও প্রতিকার পাইনি। তাই বাধ্য হয়ে দলের চেয়ারম্যানের দারস্থ হয়েছি। আশা করছি তিনি এ বিষয়ে তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেনেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুর রউফ স্বাধীন বলেন,অভিযোগ দেওয়ার বিষয়টি আমি শুনেছি। আমার কথা হচ্ছে অভিযোগটি তদন্ত করা হোক। যদি আমি দোষি হই তাহলে স্বেচ্ছায় আমি দলের পদ ছেড়ে দেব। আর যদি দোষি নাই হই তাহলে অভিযোগকারীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
কেন এ ধরনের অভিযোগ ওঠেছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিলের জলমহাল ইজারা নিয়ে দুটি পক্ষের মধ্যে সমস্যা চলছিল। অভিযোগকারীরা অপর পক্ষকে ঠকাতে চাইছিল। বিষয়টি জানাজানি হলে ঠকাতে পারেনি।জানতে চাইলে জেলা বিএনপির সভাপতি চিকিৎসক অধ্যাপক আনোয়ারুল হক বলেন, অভিযোগের বিষয়টি আমার জানা নেই। কেন্দ্র থেকেও কিছু জানায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে দোষি সাব্যস্ত হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: বিল্লাল হোসেন
www.e.bdprotidinkhabor.com
Copyright © 2026 বাংলাদেশ প্রতিদিন খবর. All rights reserved.