
মো. সেলিম উদ্দিন খাঁন
কক্সবাজারের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও পর্যটন শিল্পের নিরাপত্তার স্বার্থে অতিরিক্ত ডিআইজি আপেল মাহমুদের বদলি আদেশ স্থগিত করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। বর্তমান বাস্তবতায় সরকারের এই সিদ্ধান্তকে অত্যন্ত সময়োপযোগী ও দূরদর্শী বলে অভিহিত করেছেন পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।
এই অভিজ্ঞ কর্মকর্তার বদলি স্থগিতের খবরে একদিকে যেমন সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে আনন্দের জোয়ার বইছে, অন্যদিকে গভীর আতঙ্কে রয়েছে স্থানীয় শক্তিশালী একটি দুর্নীতিবাজ সিন্ডিকেট। কক্সবাজারের হোটেল-মোটেল মালিক সমিতি ও ট্যুর অপারেটরদের মতে, আপেল মাহমুদ দায়িত্ব পালনের সময় এই অঞ্চলে অপরাধ দমনে অভাবনীয় সাফল্য দেখিয়েছেন। পর্যটকদের জন্য নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ফলে দেশি-বিদেশি দর্শনার্থীদের আগমন উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
পর্যটন সংশ্লিষ্ট একজন ব্যবসায়ী জানান, বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে তাঁর মতো দক্ষ কর্মকর্তার ধারাবাহিক নেতৃত্ব এই অঞ্চলের অর্থনীতির জন্য অপরিহার্য ছিল। বদলি স্থগিত হওয়ার মাধ্যমে কক্সবাজারের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বড় ধরনের স্থবিরতা কেটে গেল। এদিকে, বিশ্বস্ত সূত্র জানিয়েছে যে, এই কর্মকর্তার বদলি স্থগিত হওয়ার সংবাদে একটি প্রভাবশালী দুর্নীতিবাজ ও অবৈধ সুবিধাভোগী চক্রের রাতের ঘুম হারাম হয়ে গেছে।
আপেল মাহমুদের কঠোর নজরদারি ও নিয়মতান্ত্রিক কঠোরতার কারণে আগে থেকেই কোণঠাসা হয়ে পড়া এই চক্রটি তাঁর চলে যাওয়ার অপেক্ষায় প্রহর গুনছিল। কিন্তু প্রশাসনের এই সাহসী সিদ্ধান্তে তাদের অশুভ পরিকল্পনা ভেস্তে গেছে। সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা মনে করছেন, মাঠপর্যায়ে কাজের ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে পর্যটকরা দীর্ঘমেয়াদী নিরাপত্তার সুফল ভোগ করবেন। জানা যায়-সেন্টমার্টিনের টিকিটের কথা বলে হাতিয়ে নেয়া টাকা ক্ষতিপূরনসহ আদায় করে দিলো ট্যুরিস্ট পুলিশ। সেন্টমার্টিনের টিকিট দিবে বলে প্রতারণা করে পর্যটকের কাছ থেকে হাতিয়ে নেয়া ১ লক্ষ ৫৪ হাজার টাকা উদ্ধার করে দিয়েছে ট্যুরিস্ট পুলিশ।
সেই সাথে পর্যটকদের অতিরিক্ত থাকা খাওয়ার জন্যে আদায় করা হয়েছে আরো ৭৬ হাজার টাকা জরিমানা। গত রবিবার রাতে ট্যুরিস্ট পুলিশের কক্সবাজার অঞ্চলের অতিরিক্ত ডিআইজি আপেল মাহমুদ গণমাধ্যম কে এ তথ্য জানায়। তিনি জানান,১৯ ডিসেম্বর পঞ্চগড় থেকে বেড়াতে আসা ৪৫ জন মাদ্রাসার শিক্ষার্থী সেন্টমার্টিন যাওয়ার টিকিটের জন্যে ট্যুর প্লাস নামের একটি ট্যুর অপারেটর প্রতিষ্ঠান কে ১ লক্ষ ৫৪ হাজার টাকা দেয়। তবে ট্যুর অপারেটর প্রতিষ্ঠানের মালিক ইদ্রিস মিয়া ১৯ ডিসেম্বর থেকে ২১ ডিসেম্বর পর্যন্ত টিকিট দিবে বলে তাদের নানা বাহানা দিতে থাকে।
ট্যুর অপারেটর প্রতিষ্ঠানের আশ্বাসে ৫৪ জন শিক্ষার্থী অতিরিক্ত ২ দিন কক্সবাজার থাকার পরও টিকিট বা অর্থ ফেরত না দিলে বিষয়টি ট্যুরিস্ট পুলিশ কে অবহিত করে। অভিযোগ পাওয়ার পর সেই ট্যুর প্রতিষ্ঠানের দুই কর্মকর্তাকে আটক করে ট্যুরিস্ট পুলিশ। পরে ট্যুর অপারেটর এসোসিয়েশনের মাধ্যমে বিষয়টির সমঝোতা হয়।যাতে টিকিটের ১লক্ষ ৫৪ হাজার টাকা আর অতিরিক্ত দুই দিন কক্সবাজার থাকার ব্যয় বাবত ৭৬ হাজার টাকাসহ মোট ২ লাখ ৩০ হাজার টাকা বেড়াতে আসা শিক্ষার্থীদের ফেরত দেয়া হয়। আটককৃতদের মুচলেকা দিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়।
আপেল মাহমুদ জানান,সেই ট্যুর অপারেটর প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স বাতিলের জন্যে কক্সবাজার জেলা প্রশাসক বরাবরে এবং ট্যুর অপারেটর এসোসিয়েশনের কাছে পত্র প্রেরণ করা হয়েছে।এদিকে ক্ষতিপূরণসহ টাকা ফেরত পাওয়ায় ট্যুরিস্ট পুলিশের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে পর্যটকেরা।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: বিল্লাল হোসেন
www.e.bdprotidinkhabor.com
Copyright © 2026 বাংলাদেশ প্রতিদিন খবর. All rights reserved.