
মোঃ রেজাউল হক রহমত,ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার বড়িকান্দি ইউনিয়নের থোল্লাকান্দি গ্রামে গত ১ নভেম্বর ২০২৫ রাতে সংঘটিত জোড়া খুনের ঘটনায় নিহত মো. শিপনের মা আনোয়ারা বেগম বাদী হয়ে ১২ জনসহ অজ্ঞাত ১০-১৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, বড়িকান্দি ইউনিয়নের থোল্লাকান্দি বাজারের বিশু সাহার হোটেলে নাস্তা খাওয়ার সময় এলোপাথাড়ি গুলিবর্ষণের ঘটনায় মো. শিপন নিহত হন। এতে আরও দুটি গুরুতর আহত ঘটনা ঘটে—রাশেদ মিয়ার ছেলে নুর আলম এবং সফিকুল ইসলামের ছেলে ইয়াসিনও গুলিবিদ্ধ হন। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মো. শিপন ও ইয়াসিন মৃত্যুবরণ করেন।
ঘটনার পর, পুলিশ মামলার তদন্ত শুরু করেছে এবং আসামিদের গ্রেফতার করার জন্য তৎপর রয়েছে। মামলার আসামির তালিকায় বড়িকান্দি ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের ১২ জন এবং অজ্ঞাত ১০-১৫ জন ব্যক্তির নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলার আসামিরা হলেন—বড়িকান্দি ইউনিয়নের পুরাতন থোল্লাকান্দি গ্রামের এমরান, ধরাভাঙ্গা গ্রামের আবুল কালাম, পুরাতন থোল্লাকান্দি’র আরাফাত, নতুন থোল্লাকান্দির সোহাগ মিয়া, ধরাভাঙ্গার রুবেল মিয়া, পুরাতন থোল্লাকান্দির শাহাদাৎ হোসেন সোহাগ, বড়িকান্দির অলি মিয়া, পুরাতন থোল্লাকান্দির তাজুল ইসলাম, ধরাভাঙ্গার আব্বাস মিয়া, পুরাতন থোল্লাকান্দির বশির মিয়া, নুরজাহানপুরের সানাউল্লাহ, খোকা মিয়ার ছেলে শরীফ মিয়া ও হাসিব মিয়া।
এদিকে, নিহত শিপন ও ইয়াসিনের পরিবারের সদস্যরা এবং স্থানীয় এলাকাবাসী হত্যাকারিদের দ্রুত গ্রেফতার ও তাদের ফাঁসির দাবিতে সোচ্চার হয়েছেন। বুধবার সকালে নুরজাহানপুর গ্রাম থেকে থোল্লাকান্দি বাজার পর্যন্ত একটি বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। মিছিলটি মাজার প্রাঙ্গণে গিয়ে শেষ হয়, যেখানে এক বিশাল মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে হত্যাকারিদের দ্রুত বিচার ও ফাঁসির দাবিতে স্লোগান তোলেন ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী।
স্থানীয়দের মধ্যে অস্থিরতা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তারা আশা প্রকাশ করেছেন, যাতে এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতরা দ্রুত বিচারের আওতায় আসেন এবং তাদের উপযুক্ত শাস্তি নিশ্চিত হয়।
এছাড়া, পুলিশ হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন এবং আসামিদের দ্রুত গ্রেফতারের জন্য অভিযান অব্যাহত রেখেছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: বিল্লাল হোসেন
www.e.bdprotidinkhabor.com
Copyright © 2026 বাংলাদেশ প্রতিদিন খবর. All rights reserved.