
চট্টগ্রাম প্রতিনিধি
চট্টগ্রামের হাটহাজারী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ মনজুর কাদের ভূঁইয়া “চকরিয়ার সেই ওসি চট্টগ্রামে এসেও জড়িয়েছেন বিতর্কে” শীর্ষক মানবজমিন পত্রিকায় ২৫ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে প্রকাশিত সংবাদের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
শনিবার (২৫ অক্টোবর) এক লিখিত প্রতিবাদ বার্তায় ওসি মনজুর কাদের ভূঁইয়া জানান, মানবজমিন অনলাইনে প্রকাশিত উক্ত সংবাদটি “সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট, অপপ্রচারমূলক ও মানহানিকর।”
তিনি বলেন, “প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে আমি নাকি ‘খুনের শিকার হওয়া স্কুলছাত্রের ভাইকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়েছি’। প্রকৃতপক্ষে, তানভির নামের এক স্কুলছাত্র হত্যাকাণ্ডের ঘটনার ৬ ঘন্টার মধ্যেই হাটহাজারী থানা পুলিশ ৩ জন কিশোরকে আটক করে। শিশু আইন অনুযায়ী তাদের ছবি বা পরিচয় প্রকাশ করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। কিন্তু রায়হান নামের এক যুবক থানার ভেতরে ঢুকে ওই শিশুদের ছবি ও ভিডিও ধারণের চেষ্টা করে পুলিশের কাজে বাধা সৃষ্টি করে এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলা চালায়। এ ঘটনায় তাকে আইনানুগভাবে আটক করে মামলা রুজু করা হয়।”
ওসি মনজুর আরও জানান, উক্ত যুবক রায়হান একই সঙ্গে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কাজী তারেক আজিজের ওপর হামলার মামলারও আসামি। অথচ প্রতিবেদনে এসব তথ্য গোপন রেখে একপেশে ও বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে।ওসি মনজুর আরও জানান, উক্ত যুবক রায়হান একই সঙ্গে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কাজী তারেক আজিজের ওপর হামলার মামলারও আসামি। অথচ প্রতিবেদনে এসব তথ্য গোপন রেখে একপেশে ও বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে।ওসি মনজুর আরও জানান, উক্ত যুবক রায়হান একই সঙ্গে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কাজী তারেক আজিজের ওপর হামলার মামলারও আসামি। অথচ প্রতিবেদনে এসব তথ্য গোপন রেখে একপেশে ও বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে।
এছাড়া প্রতিবেদনে সাংবাদিক মনসুর আলম মুন্নাকে ‘অপহরণ করে নির্যাতনের অভিযোগ’ সম্পর্কেও ওসি মনজুর কাদের ভূঁইয়া বলেন, “মনসুর আলম মুন্না একজন পেশাদার চাঁদাবাজ ও মাদক ব্যবসায়ী। তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে এবং বিভিন্ন সময় র্যাব ও পুলিশ তাকে গ্রেফতার করেছে। বাংলাদেশ প্রতিদিনসহ জাতীয় ও স্থানীয় গণমাধ্যমে এ সংক্রান্ত সংবাদও প্রকাশিত হয়েছে।”
তিনি দাবি করেন, “চকরিয়া থানায় কর্মরত থাকাকালে উক্ত ব্যক্তি আমার কাছ থেকে টাকা দাবি করে। আমি বিষয়টি আমার উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবহিত করলে তাদের নির্দেশে চাঁদাবাজির মামলা দায়ের করি। মামলাটি এখন আদালতে বিচারাধীন।”
ওসি মনজুর বলেন, “মনসুর আলম মুন্না জামিনে বেরিয়ে আবারও পূর্বের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়ায় এবং বিভিন্ন ব্যক্তি ও কর্মকর্তাকে মিথ্যা মামলায় জড়াতে শুরু করে। এমনকি আমার বিরুদ্ধেও পরিকল্পিতভাবে অপপ্রচার চালাচ্ছে।”
প্রতিবেদনে যৌন হয়রানির অভিযোগ সংক্রান্ত অংশের বিষয়ে ওসি মনজুর বলেন, “এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। প্রকৃত ঘটনা হলো—গরু চোর সিন্ডিকেটের প্রধান নবী হোসেনকে গ্রেফতারের সময় অভিযানিক দলে টেলিভিশনের ক্যামেরা পার্সন উপস্থিত থেকে ভিডিও ধারণ করেন। কিন্তু অভিযানে আমার উপস্থিতি না থাকা সত্ত্বেও আমাকে অভিযুক্ত করে মামলাটি দায়ের করা হয়, যা পরবর্তীতে বিচার বিভাগীয় তদন্তে মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে।”
তিনি আরও জানান, “২০১৩ সালে ঈদগাঁও তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে সংঘর্ষের একটি ঘটনায়ও ওই মনসুর আলম মুন্না বিভ্রান্তিকরভাবে আমার নাম মামলায় সংযুক্ত করেছিল, যা পরে আদালতে প্রমাণিত হয় মিথ্যা।”
ওসি মনজুর কাদের ভূঁইয়া বলেন, “মানবজমিনের মতো একটি জনপ্রিয় ও পাঠকপ্রিয় জাতীয় দৈনিকের উচিত নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার মান বজায় রাখা। আমার বক্তব্য না নিয়ে, একতরফাভাবে মিথ্যা তথ্য প্রকাশ করে আমার সামাজিক ও পেশাগত সম্মান ক্ষুণ্ন করা হয়েছে।”
তিনি সংবাদপত্র কর্তৃপক্ষকে ভবিষ্যতে যাচাই-বাছাই করে তথ্য প্রকাশের আহ্বান জানান এবং প্রকৃত তথ্য পাঠকদের সামনে উপস্থাপনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: বিল্লাল হোসেন
www.e.bdprotidinkhabor.com
Copyright © 2026 বাংলাদেশ প্রতিদিন খবর. All rights reserved.