
রাজশাহীর বাঘায় গৃহবধূ মনিষা খাতুন (১৮) এর মৃত্যুর পর তার স্বামী আজাদ আলী পলাতক রয়েছে। পরে খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পঠিয়েছে। মঙ্গলবার(২১ অক্টোবর’২৫) বাঘা উপজেলার মনিগ্রাম ইউনিয়নের আটঘরিয়া গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।
পারিবারিক সুত্রে জানা যায়, গত ৪ বছর আগে কাবিন (রেজিস্ট্রি) ছাড়াই একই গ্রামের আজাদ আলীর সাথে তার বিয়ে হয়। তাদের ঘরে আড়াই বছরের এক কণ্যা রয়েছে।
গৃহবধুর পিতা মুনসাদ আলী জানান, বিয়ের সময় মেয়ের বয়স কম থাকায় কাবিন ছাড়াই বিয়ে দেন। মত্যুর দেড় মাস আগে বিয়ে রেজিস্ট্রি করতে চাইলে ছেলের মামা ২ লক্ষ টাকা যৌতুক দাবি করে। তার দাবি,বিয়ের সময় ছেলের পরিবারকে ২ লক্ষ টাকা যৌতুক হিসেবে দিয়েছেন ।
ওই গৃহবধূর মামা সাদ্দাম হোসেন জানান, রাত আড়াইটার দিকে তার মা রুবিনা খাতুন গলায় ফাঁস দিয়ে মৃত্যুর খবর পেয়ে ফানে আমাকে জানান। সেখানে গিয়ে ঘরের বারান্দায় মরদেহ শোয়ানো অবস্থায় দেখেন। পরে ৯৯৯ কল করে পুলিশকে জানাই। তিনি বলেন, ওই ছেলে কিছুদিন আগে আরেকটি মেয়ের সাথে সম্পর্ক করে বিয়ে করেছে বলে শুনেছি । সেই বউকে বাড়িতে চাইলে মাঝে মাঝেই তাদের মতবিরোধ হলে বাপের বাড়িতে চলে যাওয়ার কথা বলতো।
গৃহবধূর মা রুবিনা খাতুন কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন , তার মেয়েকে নির্যাতন করে মেরে ফেলার পর ঝুলিয়ে রেখে আত্নহত্যার করেছে বলে প্রচারনা চালাচ্ছে। তাদের মতবিরোধের কারণে মেয়ে আমার বাড়িতে যেতে চাইলেও পাঠাইনি। এমনকি আমার সাথে কথাও বলতে দেন না তারা ।
আজাদ আলীর (গৃহবধুর স্বামী) মা শরিফা বেগম জানান, গতকাল সন্ধ্যায় আমার ছেলের সাথে তার বউয়ের ঝগড়া হয়। এ সময় বিষ খেয়ে মারা যাবো বলে বাড়ি থেকে বের হয়ে যায় । তারপর ছেলেকে খুজতে বের হয়। পরে রাত ১১ টার দিকে ঘরে গিয়ে দেখি ছেলের বউ শয়ন কক্ষের তীরের সাথে গলায় ওড়না পেচিয়ে ঝুলে আছে। তার দাবি, তার ছেলে দ্বিতীয় বিয়ে করে নি ।
আজাদ আলীর মামা শহিদুল ইসলাম টাকা নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, টাকা না জামাইকে একটি মটরসাইকেল দেওয়ার কথা ছিল। বর্তমানে টাকা চাওয়ার কথা সত্য নয়।
বাঘা থানার এসআই মোজাম্মেল হোসেন বলেন, বারান্দায় শোয়ানো অবস্থায় মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করে রামেক হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগে পাঠানো হয়েছে। গলায় দাগ দেখে প্রাথমিকভাবে আত্মহত্যার ধারণা করা হয়েছে। অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আফম আছাদুজ্জামান বলেন, একটি অপমৃত্যু মামলা রুজু করা হয়েছে। ময়না তদন্ত রিপোর্ট পেলে মৃত্যু সঠিক কারণ জানা যাবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: বিল্লাল হোসেন
www.e.bdprotidinkhabor.com
Copyright © 2026 বাংলাদেশ প্রতিদিন খবর. All rights reserved.