
মো. সেলিম উদ্দিন খাঁন
মহাসড়কে যানবাহনের তুলনায় হাইওয়ে পুলিশের সক্ষমতা কি পর্যাপ্ত, তিন হাজার কিলোমিটার পথের নিরাপত্তা দিতে গিয়ে ২,৮০০ পুলিশ সদস্যকে হিমশিম খেতে হয়,মহাসড়কে যানবাহনের সংখ্যা বাড়লেও চাহিদা অনুযায়ী হাইওয়ে পুলিশের অপর্যাপ্ত লোকবল এবং পরিবহন সংকটের কারণে যাত্রীরা অসুবিধার সম্মুখীন হচ্ছেন। দেশে সড়ক, নৌ ও আকাশ পথের মোট যাত্রীর ৭৩% যাতায়াত করেন সড়ক-মহাসড়কে। অন্যদিকে, ৮৩% পণ্য সড়ক-মহাসড়ক হয়ে এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় স্থানান্তর করা হয়। হাইওয়ে পুলিশ দেশের সব মহাসড়কে এখনও কার্যক্রম শুরু করতে পারেনি। জনবল, পরিবহনসহ বিভিন্ন সংকটের মধ্য দিয়ে চলছে হাইওয়ে পুলিশের বিভিন্ন কার্যক্রম।স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জানায়
হাইওয়ে পুলিশের কার্যক্রম এখনও পুরোদমে বিস্তৃত হয়নি। লোকবল বাড়লে ধারাবাহিকভাবে তাদের ওপর পুরো কার্যক্রম ন্যস্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জানান, পুলিশ যখন যেখানে থাকে, সেখানকার নিরাপত্তার বিষয়টি দেখভালের দায়িত্ব তাদের ওপর চলে আসে।সড়ক, মহাসড়কগুলো যেন হাইওয়ে পুলিশের অধীনে নিয়ন্ত্রিত হয়- এ বিষয়ে পুলিশের মহাপরিদর্শক কার্যকর ব্যবস্থা নেবেন। এ কারণে হাইওয়ে পুলিশকে শক্তিশালী করে তাদের দক্ষতা বাড়ানো হচ্ছে। হাইওয়ে পুলিশ বর্তমানে ৭৩টি থানা ও ফাঁড়ির মাধ্যমে দায়িত্ব পালন করে আসছে। দুর্ভাগ্যজনক হলেও প্রতিটি ফাঁড়িতে মাত্র একটি করে গাড়ি রয়েছে। তিন হাজার কিলোমিটার পথের নিরাপত্তা দিতে গিয়ে ২,৮০০ পুলিশ সদস্যকে হিমশিম খেতে হয়। এছাড়া বাকি আরও ৬,০০০ কিলোমিটার মহাসড়ক হাইওয়ে পুলিশের আওতায় আনতে নতুন ইউনিট, নতুন থানা ও ফাঁড়ি স্থাপন করতে হবে। এ কারণে বাড়তি জনবল লাগবে। হাইওয়ে পুলিশের এ সংক্রান্ত প্রস্তাবনা সরকারের বিবেচনায় রয়েছে। এ বিষয়ে হাইওয়ে পুলিশের প্রধান অ্যাডিশনাল আইজি মো. দেলোয়ার হোসেন মিঞা বলেন, অল্প কয়েকটি থানা ও ফাঁড়িতে দুটি করে টহল গাড়ি থাকলেও অধিকাংশ থানাতেই একটি করে গাড়ি রয়েছে, যা প্রয়োজনের তুলনায় একেবারেই কম। অনেকগুলো গাড়ি আবার পুরোনো, যেগুলো প্রায়ই মেরামত করে চালাতে হয়।” তিনি আরও বলেন, “নির্দিষ্ট থানা ও ফাঁড়ি এলাকায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার রাস্তা একাধিকবার টহল দিতে হয়। প্রতিটি থানা ও ফাঁড়িতে যদি আরও একটি করে গাড়ি যুক্ত করা যায়, তাহলে হাইওয়ে পুলিশের কাজে গতিশীলতা বাড়বে।” সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২ হাজার ৯৯১ কিলোমিটার মহাসড়কে মানুষের চলাচল ও যাত্রীসেবার মানোন্নয়ন, নিরাপদ সড়ক-মহাসড়ক নিশ্চিতকরণ, দুর্ঘটনায় মৃত্যুর হার কমিয়ে আনা, দুর্ঘটনার রোধে চালক ও হেলপারসহ সড়ক ব্যবহারকারীদের সচেতন করাসহ পেশাদারিত্বের সঙ্গে আইন প্রয়োগে হাইওয়ে পুলিশ কাজ করে যাচ্ছে।স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, “হাইওয়ে পুলিশের জনবল বৃদ্ধির বিষয়টি সরকারের পরিকল্পনায় রয়েছে। পাশাপাশি তাদের সক্ষমতা ও থানার সংখ্যা বৃদ্ধি এবং থানাগুলোর কার্যক্রমে গতিশীলতা আনতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।” একাধিক শ্রমিক নেতারা বলেন, হাইওয়ে পুলিশের কার্যক্রমে গতিশীলতা আনতে জনবল সংকট নিরসন করতে হবে। তা না হলে ‘নিরাপদ সড়ক চাই'- এ স্লোগানের কার্যকর ফলাফল আসবে না। সড়কে শৃঙ্খলার বিষয়টিও আসবে না।” সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির একাধিক নেতা বলেন, প্রতি বছর বিআরটিএকে যে পরিমাণ কর দেওয়া হয়, তার একটি অংশ যদি হাইওয়ে পুলিশকে দেওয়া হয়, তাহলে সড়ক-মহাসড়কের নিরাপত্তায় আরও কার্যকর ব্যবস্থাপনার দিকে যেতে পারবে হাইওয়ে পুলিশ।” পরিবহন মালিক সমিতির নেতারা বলেন, মহাসড়কে কোনো সমস্যা দেখা দিলে, বা দুর্ঘটনা ঘটলে হাইওয়ে পুলিশের পাশাপাশি অন্যান্য পুলিশও দায়িত্ব পালন করে। সে কারণে অনেক সময় থানা পুলিশের কাছে বেশি দৌড়ঝাঁপ করতে হয়। হাইওয়ে পুলিশ মামলার তদন্ত করে থাকে। যেহেতু মহাসড়কের নিরাপত্তার জন্য হাইওয়ে পুলিশ তৈরি হয়েছে, তাই দেশের মহাসড়কের পুরো দায়িত্ব হাইওয়ে পুলিশকে দেওয়ার দাবি জানাই।” কর্মকর্তারা জানান, মহাসড়কে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে ব্যস্ততা বেড়েছে। ফলে দুর্ঘটনার সংখ্যাও অনেক বেশি। মহাসড়কে দুর্ঘটনা শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনতে ২৫০ কিলোমিটার রাস্তা সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনা হচ্ছে। এ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হলে মহাসড়কে চুরি, ডাকাতি ও দুর্ঘটনার ঘটলে তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: বিল্লাল হোসেন
www.e.bdprotidinkhabor.com
Copyright © 2026 বাংলাদেশ প্রতিদিন খবর. All rights reserved.