

নিজস্ব প্রতিবেদক:
বর্ষা এলেই সঙ্গে আসে নানা ধরনের সংক্রামক রোগ। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় হঠাৎ করেই জ্বরের প্রকোপ বাড়তে শুরু করেছে। আবহাওয়ার পরিবর্তন ও বৃষ্টির কারণে জলবাহিত, মশাবাহিত এবং ভাইরাসঘটিত সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় ঘরে ঘরে রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। চিকিৎসকরা বলছেন, এটি মৌসুমী সাধারণ জ্বর নয়—আড়ালে লুকিয়ে রয়েছে ডেঙ্গু, টাইফয়েড কিংবা ইনফ্লুয়েঞ্জা। তাই এখনই প্রয়োজন সচেতনতা ও সতর্কতা।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও চিকিৎসকদের তথ্যমতে, বর্তমানে একসঙ্গে একাধিক জ্বর ছড়িয়ে পড়ছে। এর মধ্যে রয়েছে—
জলবাহিত সংক্রমণ: টাইফয়েড, হেপাটাইটিস
মশাবাহিত সংক্রমণ: ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়া
রেসপিরেটরি ভাইরাস: ইনফ্লুয়েঞ্জা, কোভিড-১৯
এই জ্বরগুলোর প্রাথমিক উপসর্গ প্রায় এক হলেও ভিন্ন রোগের আলাদা আলাদা লক্ষণ ও চিকিৎসা রয়েছে। ফলে সাধারণ জ্বর ভেবে অবহেলা করলেই বিপদ বাড়বে বলে সতর্ক করছেন বিশেষজ্ঞরা।
ডেঙ্গুর ক্ষেত্রে সাধারণত হঠাৎ উচ্চ তাপমাত্রায় জ্বর আসে। সঙ্গে থাকে—
গা ও হাড়ের ব্যথা
মাথাব্যথা
চোখের পেছনে চাপ
বমির প্রবণতা
চামড়ায় র্যাশ
সবচেয়ে বিপজ্জনক দিক হলো প্লেটলেট দ্রুত কমে যাওয়া ও অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ। ডেঙ্গু শনাক্তে প্রথম ৩-৫ দিনের মধ্যে NS1 টেস্ট এবং ৫ দিনের পর IgM অ্যান্টিবডি টেস্ট জরুরি। বেশি করে পানি ও তরল খাওয়া ডেঙ্গু প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ।
টাইফয়েড সাধারণত ধীরে ধীরে জ্বর বাড়িয়ে দেয়। উপসর্গের মধ্যে থাকে—
পেট ব্যথা ও অস্বস্তি
কোষ্ঠকাঠিন্য বা ডায়রিয়া
শরীরে দুর্বলতা
লিভার কার্যকারিতায় সমস্যা
টাইফয়েড নির্ণয়ে ব্লাড কালচার, ওয়াইডাল টেস্ট ও IgM টেস্ট দরকার। এ রোগে অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োজন, তবে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শে।
এই ভাইরাসজনিত জ্বর সাধারণত শুরু হয়—
হঠাৎ জ্বর
সর্দি-কাশি
গলা ব্যথা
শ্বাসকষ্ট (কিছু ক্ষেত্রে)
এই ভাইরাস অত্যন্ত ছোঁয়াচে। একজন আক্রান্ত হলে পরিবারের অন্যদের মধ্যে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। বয়স্ক ও কোমর্বিডিটিযুক্ত ব্যক্তিদের আলাদা রাখার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা।
চিকিৎসকদের মতে, এই সময় জ্বর হলে:
চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ খাবেন না
প্যারাসিটামল খাওয়া যেতে পারে, তবে স্টেরয়েড নয়
টানা ২-৩ দিন ১০২-১০৪ ডিগ্রি তাপমাত্রা থাকলে অবশ্যই পরীক্ষা করান
পর্যাপ্ত পানি পান করুন, বিশুদ্ধ বা ফুটানো পানি গ্রহণ করুন
খোলা খাবার ও কাটা ফল খাবেন না
মশার কামড় থেকে বাঁচতে মশারি, রিপেলেন্ট ব্যবহার করুন
শিশু ও অসুস্থ ব্যক্তির পাশে জ্বর নিয়ে যাবেন না, প্রয়োজনে মাস্ক ব্যবহার করুন
চিকিৎসকরা বলছেন, “জ্বর আসলে রোগ নয়, এটা একটা উপসর্গ। এর পেছনের আসল রোগটিকে খুঁজে বের করাই সবচেয়ে জরুরি।” তাই জ্বর হলে অবহেলা নয়, সময়মতো পরীক্ষা ও চিকিৎসা নিন। সতর্ক থাকুন, সুস্থ থাকুন।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: বিল্লাল হোসেন
www.e.bdprotidinkhabor.com
Copyright © 2026 বাংলাদেশ প্রতিদিন খবর. All rights reserved.