
বাংলাদেশ রেলওয়ে পোষ্য সোসাইটি রেলওয়ের তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির নিয়োগে বহাল থাকা পোষ্য কোটা বিলুপ্তির প্রস্তাব বাতিলের দাবি জানিয়েছে। সম্প্রতি রেল মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক বরাবর এক লিখিত আবেদনপত্রে এই দাবি জানায় সংগঠনটি।
সোসাইটির কেন্দ্রীয় সভাপতি মো. মনিরুজ্জামান মনির স্বাক্ষরিত আবেদনপত্রে উল্লেখ করা হয়, ২১ জুলাই ২০২৪ তারিখে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের রায় এবং ২৩ জুলাই জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনকে ভুলভাবে ব্যাখ্যা করে রেলওয়ের পোষ্য কোটা বাতিলের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, যা আইনত, প্রশাসনিকভাবে এবং আন্তর্জাতিক নীতিমালার আলোকে পুরোপুরি বেআইনি ও সংবিধানবিরোধী।
আবেদনপত্রে বলা হয়, রেলওয়ের পোষ্য কোটা একটি মানবিক ও সাংগঠনিক কাঠামোর অংশ। এটি রেলওয়ের কর্মচারীদের সন্তানদের জন্য একটি সুরক্ষা বলয়, যারা তাদের পরিবারের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সেবাদান করে থাকেন। কোটা বিলুপ্তির মাধ্যমে সেই মানবিক ও সামাজিক দায়িত্বকে অস্বীকার করা হবে বলে দাবি সংগঠনের।
আবেদনে আরও বলা হয়, রেলওয়ে একটি বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান এবং তার নিজস্ব নিয়োগ বিধিমালা রয়েছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন মূলত সরকারি কর্মচারী নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতি বিধিমালার আওতাধীন সংস্থাগুলোর জন্য প্রযোজ্য, রেলওয়ের জন্য নয়।
সংবিধানের অনুচ্ছেদ ২৮(৪) ও ২৯(৩)-এর উল্লেখ করে আবেদনপত্রে বলা হয়, পোষ্য কোটা একটি সংবিধানসম্মত বিশেষ ব্যবস্থা এবং এটি সংরক্ষণ করাই রাষ্ট্রের দায়িত্ব।
সোসাইটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, সুপ্রিম কোর্টের রায় শুধুমাত্র প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির চাকরির ক্ষেত্রে ৭% কোটা সংরক্ষণের নির্দেশ দিয়েছে, যেখানে রেলওয়ের পোষ্য কোটার কোনো উল্লেখ নেই। বরং রেলওয়ের অভ্যন্তরীণ পদ্ধতি ও মানবিক চাহিদা অনুযায়ী এই কোটার প্রয়োজনীয়তা আরও জোরালো।
আন্তর্জাতিক নজির ও ন্যায়বিচারের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে আবেদনপত্রে ভারতের রেলওয়ে রিক্রুটমেন্ট বোর্ড, যুক্তরাজ্যের সিভিল সার্ভিস এবং আইএলও-র রেফারেন্স তুলে ধরে বলা হয়, বিশ্বব্যাপী রাষ্ট্রীয় বা প্রতিষ্ঠানভিত্তিক মানবিক নিয়োগ নীতিমালায় পরিবারভিত্তিক পুনর্বাসনের ব্যবস্থা রয়েছে। সেই দৃষ্টিকোণ থেকে রেলওয়ের পোষ্য কোটা একটি বৈধ ও দায়িত্বশীল সামাজিক চুক্তি।
তিনটি দাবি উত্থাপন করে সংগঠনটি:
১. পোষ্য কোটা বাতিলের প্রস্তাব বাতিল করে যথাযথ ব্যাখ্যামূলক বিজ্ঞপ্তি জারি করা।
২. বিভ্রান্তিকর সব দাপ্তরিক চিঠিপত্র ও নির্দেশনা প্রত্যাহার।
৩. পোষ্য কোটাকে সাংগঠনিকভাবে সংরক্ষণ ও পুনঃপ্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া।
“এটি কেবল একটি কোটা নীতির প্রশ্ন নয়, বরং একটি প্রজন্মের অধিকার এবং রেলওয়ে কর্মচারীদের আত্মত্যাগের মূল্যায়নের বিষয়,”—আবেদনপত্রে এমন মন্তব্য করে বাংলাদেশ রেলওয়ে পোষ্য সোসাইটি তাদের দাবি তুলে ধরে।
রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ এই বিষয়ে এখনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি, তবে রেলওয়ের অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, বিষয়টি প্রাথমিকভাবে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: বিল্লাল হোসেন
www.e.bdprotidinkhabor.com
Copyright © 2026 বাংলাদেশ প্রতিদিন খবর. All rights reserved.