

নীলফামারীর ডোমারে শিক্ষার্থীকে মারধর,বাবাকে হাজতে দিলেন ডোমার কৃষি অফিসার।
নীলফামারী ডোমার উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আনিছুজ্জামানের সন্তান চতুর্থ শ্রেণীর ছাত্র রাহাদ আহম্মেদ মৃন্ময় একই স্কুল উপজেলা আদর্শ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৫ম শ্রেণির ছাত্র সিয়াম আহমেদের খেলার মাঠে সাইকেল চালানো কেন্দ্র করে ঝগড়া বাধে। এরই এক পর্যায়ে দুইজনের মধ্যে হাতাহাতি ঘটনা ঘটে।
বিষয়টি মৃন্ময়ের মা উপজেলা কৃষি অফিসারের স্ত্রী বাসার জানালা দিয়ে দেখতে পেয়ে মাঠে গিয়ে সিয়ামকে মারধর করে টেনে হেচরে তাদের কোয়াটারের দিকে নিয়ে যায় এক পর্যায়ে তার স্বামী কৃষি অফিসারকে ফোন দিলে অফিস থেকে এসে উত্তেজিত হয়ে তাদের কোয়াটারের সামনে এসে সিয়ামকে মারধর ও তার বুকে লাথি মারে। এ সময় মাঠের থাকা শিক্ষার্থীরা এগিয়ে আসে সিয়ামকে বাচাতে ও মারার কারন জানতে চাইলে তাদের উপরও কৃষি অফিসার গায়ে হাত তুলেন বলে শিক্ষার্থীরা জানান। এ সময় শিক্ষার্থী-সহ স্থানীয় লোকজন সিয়ামকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করায়।
কর্তব্যরত ডা. নাহিদা বলেন, শিশুটি গায়ে ও বুকে আঘাতের চিহৃ রয়েছে। শিশুটিকে বর্তমানে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
সিয়াম পৌরসভার ৯ নং ওয়ার্ড ডাঙ্গাপাড়া এলাকার মোফাজ্জল হোসেন মোফার ছেলে।
জানাযায় সোমবার(২০ জুন) বিকালে ডোমার উপজেলা পরিষদ হেলিপ্যাড মাঠে ঘটনাটি ঘটে। ঘটনার জের ধরে সন্ধ্যায় বিষয়টি জানতে পেরে মোফাজ্জল হোসেন মাঠে থাকা প্রত্যক্ষদর্শীদের নিয়ে উপজেলা পরিষদে কৃষি অফিসারের কার্যালয়ে যান। এবং কৃষি অফিসারের কাছে তার ছেলেকে মারধরের কারন জানাতে চাইলে উভয়ে তর্ক বির্তকে জড়িয়ে পরেন। এক পর্যায়ে সেখানে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনের জন্য থানায় খবর দেয়া হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে। এ সময় সিয়ামের বাবা মোফাকে পুলিশ আটক করে।
ঘটনার দিন রাতেই কৃষি কর্মকর্তা আনিছুজ্জামান বাদী হয়ে ৬ জন নামীয় ও অজ্ঞাত নামে সরকারী কাজে বাধা,অফিসে ঢুকে কর্মকর্তাকে লাঞ্চিত করার অভিযোগে থানায় মামলা দায়ের করেন।যার মামলা নং-৬, তাং-২১/৬/২২। ওই মামলায় মোফাজ্জল হোসেন ও সৌরভ নামে দুইজনকে আটক করে মঙ্গলবার(২১ জুন) সকালে আদালতে প্রেরন করেন পুলিশ।
আহত শিশুটির মা স্বপ্না আক্তার জানান, তার ছেলে সিয়াম দীর্ঘদিন থেকেই অসুস্থ্য। তার খাদ্যনালি চিকন হয়ে যাচ্ছে। অপারেশনে জন্য দ্রুত ভারতে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি চলছে। আরো বলেন, আমার ছেলে ভুল করলেও তিনি আমাকে জানাতে পারতেন। আমি তাকে শাসন করতাম। কিন্তু তিনি এসে আমার অসুস্থ্য ছেলের বুকে লাথি মারেন। একজন দায়িত্বশীল অফিসার হয়ে এমন কাজ কিভাবে করলেন।
এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কাছে বিষয়টি জানার জন্য মুঠো ফোনে কলদিলে ফোন রিসিভ করেননি।
এ বিষয়ে জেলা কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আবু বক্কর সিদ্দিক জানান, বিষয়টি সম্পর্কে আমি অবগত নই। তাছাড়া এটি ডোমার উপজেলা পরিষদে।
অপরদিকে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. রমিজ আলম জানান, সোমবার সন্ধ্যায় অফিসে এসে কিছু লোক হামলা করে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়েছে।
ডোমার থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, এ ঘটনায় দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে,বিবাদির হামলার ঘটনা সিসি টিভিতে দেখে নিশ্চিত হওয়া যাবে। মঙ্গলবার সকালে তাদের আদালতে মাধ্যমে জেলা কারাগারে প্রেরন করা হয়েছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: বিল্লাল হোসেন
www.e.bdprotidinkhabor.com
Copyright © 2026 বাংলাদেশ প্রতিদিন খবর. All rights reserved.