

সীতাকুণ্ডে অগ্নিদগ্ধ ফায়ারম্যান গাওসুল আজমের (২৪) মৃত্যুতে গোটা পরিবারসহ স্বজনদের মাঝে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। গাউসুলের না ফেরার দেশে চলে যাওয়াকে কোনভাবেই মেনে নিতে পারছেন না স্বজনরা।
রোববার (১২জুন) ভোর ৩টায় ঢাকার শেখ হাসিনা বার্ন ইউনিট হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান গাউসুল আজম । মৃত্যুর খবর শুনে যশোরের মনিরামপুরে গ্রামের বাড়িতে শুরু হয় স্বামী, ছেলে, আবার কারও ভাই বা স্বাজন হারানো হ্দয় বিদারক আহাজারি। স্বামীর অকাল মৃত্যুতে নির্বাক হয়ে গেছেন স্ত্রী কাকলী। বিলাপ করতে করতে মা আছিয়া বেগম অজ্ঞান হয়ে যাচ্ছেন। আর বাবার বিরামহীন কান্নায় ভারী হয়ে গেছে গোটা পরিবেশ। শুধু গাউছুলের একমাত্র সন্তান ছয় মাস বয়সী অবুঝ শিশু সিয়াম জানে না যে সে বাবাকে হারিয়েছে।
রোববার দুপুর তিনটায় ঢাকা ফায়ার সার্ভিস সিভিল ডিফেন্সের সদর দপ্তরে গাউসুলের গার্ড অফ অনার ও প্রথম জানাযা শেষে স্বজনরা মরদেহ নিয়ে রওনা হয় গ্রামের বাড়ি যশোরের পথে। রাত সাড়ে ১১টার দিকে লাশবাহী ফ্রিজিং ভ্যানে করে গাউসুলের মরদেহ পৌছায় গ্রামের বাড়ি মনিরামপুরের খাটিয়াডাঙায়। গাউসুলের মুখ ঝলসে যাওয়া সত্তেও শেষ দেখা দেখে মনকে সান্তনা দিতে ভিড় জমান এলাকাবাসী ও স্বজনরা। এরপর গাউছুলের মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় খাটুয়াডাঙা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মাঠে। যেখানে জড়িয়ে আছে মনিরামপুরের কৃতি সন্তান গাউছুলের শৈশবের স্কুল জীবনের সৃতি। সেই স্কুল মাঠেই ফায়ার সার্ভিসের বিভাগীয় ও যশোর জেলার কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে দেওয়া হয় গার্ড অফ অনার।
ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সংগঠনের ব্যাক্তিবর্গ। এরপর কয়েক হাজার মানুষের উপস্থিতিতে রাত সাড়ে ১২টায় পড়ানো হয় গাউসুলের শেষ জানাযা। জানাযা শেষে গাউসুলের মরদেহ পুনরায় নিয়ে যাওয়া হয় বাড়িতে। সেখানে রাতে পারিবারিক কবরস্থানে চির নিদ্রায় সায়িত করা হয় অগ্নিযোদ্ধা গাউসুলের নিথর দেহ।
মমিরামপুর উপজেলা চেয়ারম্যান নাজমা খানম বলেন, নিহত গাউসুলের পরিবারের পাশে থেকে পিতৃহারা শিশু সিয়ামকে সু-শিক্ষায় শিক্ষিত করার পাশাপাশি সার্বিক সহোযোগিতা করে যাবো। তার মৃত্যুতে আমরা গভীর শোকাহত।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: বিল্লাল হোসেন
www.e.bdprotidinkhabor.com
Copyright © 2026 বাংলাদেশ প্রতিদিন খবর. All rights reserved.